স্টার্কের ভয়ংকর রূপ দেখল রাজস্থান!

প্রথম দুই ওভারে ২৮ রান দেওয়ার পর সমালোচনার ফিসফাস উঠছিল। কিন্তু স্টার্ক মানেই তো ঝড়ের আগে নীরবতা! পরের দুই ওভারে রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন ব্যাটারদের ওপর।

প্রথম দুই ওভারে খরচা করেন ২৮ রান। সবাই ভেবেই নিয়েছিল আরও এক বিবর্ণ রাত কাটবে মিচেল স্টার্কের। তবে নায়কদের কিছু বৈশিষ্ট থাকে, তারা মুহূর্তের নিজের চরিত্র বদলে নিতে পারেন, পরিস্থিতি বদলে দিতে পারেন। স্টার্ক সেটাই করে বুঝিয়ে গেলেন কেন তিনি বিশ্বসেরাদের কাতারে।

ম্যাচের শুরুটা ছিল রাজস্থানের ব্যাটিং তাণ্ডবের গল্প। মনে হচ্ছিল, স্কোরবোর্ডে ঝড় উঠবে, প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেবে তারা। ১৪ ওভার শেষে ১৬০ রানে দাঁড়িয়ে ছিল রাজস্থান—মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে। ব্যাটে তখন আত্মবিশ্বাসের আগুন, গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। কিন্তু ক্রিকেটের এই নাট্যমঞ্চে গল্প বদলাতে সময় লাগে না। স্টার্ক সেই গল্প বদলে দিলেন এক লহমায়।

প্রথম দুই ওভারে ২৮ রান দেওয়ার পর সমালোচনার ফিসফাস উঠছিল। কিন্তু স্টার্ক মানেই তো ঝড়ের আগে নীরবতা! পরের দুই ওভারে রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন ব্যাটারদের ওপর।

১৫ তম ওভারের দ্বিতীয় বল, ফিফটি হাঁকানো রিয়ান পরাগকে নিজের ঝুলিতে নিলেন। পরের বলেই হানা দিলেন ডোনোভান ফেরেরার ওপর। হ্যাটট্রিক চান্স, মুখোমুখি রবি সিং। সেই বলটায় চার হজম করতে হলো স্টার্ককে। আর ওটাই তাঁকে আরও একবার তাতিয়ে দিল। ঠিক পরের বলেই তুলে নিলেন রবিকেও। ছয় রানে তিন উইকেট নিয়ে শেষ করলেন ওভার।

মোমেন্টাম হারিয়ে ফেলে রাজস্থান, তবে স্টার্কের ক্ষুধা তখনও নিবারণ হয়নি। ১৯ তম ওভারে এসে ছয় রান খরচায় তুলে নিলেন দাসুন শানাকাকে। শেষমেষ রাজস্থান তোলে আট উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান।

মিচেল স্টার্ক স্পেল শেষ করেন চার ওভারে ৪০ রান দিয়ে, আর নামের পাশে তখন চারখানা উইকেট। এই যে এক পলকে ভিলেন থেকে নায়ক বনে যাওয়া, এটা সবাই পারে না। সবাই পারে না, এক ওভারে ম্যাচের ভোল পাল্টে দিতে। যারা পারে তারা মিচেল স্টার্কের মতোই সেরাদের সেরা।

Share via
Copy link