স্লেজিংয়ের জবাবে ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো

হ্যাঁ, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর সেঞ্চুরি আছে বটে, তবে এমন আগ্রাসন পাকিস্তানের পেস আক্রমণের বিপক্ষে সত্যিই অভাবনীয়। এটা পুরোপুরিই ছিল পাকিস্তানি স্লেজিংয়ের ক্রিকেটীয় জবাব।

সিলেট টেস্টের সবচেয়ে উত্তেজনার পরিস্থিতি এল চা বিরতির ঠিক আগে। তৃতীয় দিনের ওই সময় তখন ক্রিকেটের বাইরেও চলছিল স্নায়র লড়াই।

পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদের সঙ্গে কী একটা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়েছিল মুশফিকুর রহিমের। দুজনের মধ্যেই চলল খানিকটা উত্তাপ ছড়ানো সৌহার্দ্য বিনিময়। সেই আলোচনায় যোগ দিলেন তাইজুল ইসলামও। কয়েকটা কথা বললেন তিনিও। আম্পায়াররা তাতে যোগ না দিলেও বোঝা যাচ্ছিল, মুশফিক নিজেকে সংযত করে নিয়েছেন বলেই ঘটনাটা বড় হয়নি।

ঘটনা অবশ্য সেখানেই থামেনি। তাইজুল তখন স্ট্রাইকে। ক্রিজে ফিরে যেতেই তাকে কিছু একটা বললেন সৌদ শাকিল। তাইজুলও জবাব দিলেন সঙ্গে সঙ্গে। স্লিপে যাওয়ার সময়ও থামলেন শাকিল, আবারও কিছু বললেন। কথাটা সম্ভবত বেশ কড়া ছিল।

কারণ, সাধারণত শান্ত-নিরীহ চেহারার তাইজুলও খানিকটা তেতে উঠে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলেন। চোখে মুখে ক্ষোভ। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত হলো ঠিকই, কিন্তু বাতাসে তখনও চাপা বারুদের গন্ধ।

এরপরই এল সেই মুহূর্ত। পাকিস্তানি পেসার খুররাম শাহজাদ শরীর লক্ষ্য করে ছুড়ে দিলেন এক বাউন্সার। আর তখনই যেন তাইজুলের ভেতরে একসঙ্গে ভর করল বাংলাদেশি অহম আর ক্যারিবিয়ান দাপট। এক পা তুলে সপাটে পুল!

হ্যাঁ, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর সেঞ্চুরি আছে বটে, তবে এমন আগ্রাসন পাকিস্তানের পেস আক্রমণের বিপক্ষে সত্যিই অভাবনীয়। এটা পুরোপুরিই ছিল পাকিস্তানি স্লেজিংয়ের ক্রিকেটীয় জবাব।

Share via
Copy link