বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাদা পোশাকের আভিজাত্যে মুশফিকুর রহিম কেবল সাধারণ একজন ব্যাটার নন, তিনি এক ত্রাণকর্তা। গত কয়েক বছর ধরে যখনই লাল-সবুজ শিবিরের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তখনই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন মি. ডিপেন্ডেবল। টেস্ট ক্রিকেটের মাঠে তিনি দলের এক অপরিহার্য ভরসা।
ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে একের পর এক হাফ সেঞ্চুরি আর সেঞ্চুরিকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন এই লিটল মাস্টার। যান্ত্রিক আর দ্রুতগতির ক্রিকেটের এই যুগেও টেস্ট ক্রিকেটের চিরায়ত সৌন্দর্য আর ধৈর্যের এক জীবন্ত প্রতীক মুশফিক। তাঁর প্রতিটি ইনিংসই যেন সবুজ ক্যানভাসে আঁকা এক একটি নিখুঁত চিত্রকর্ম।
পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় এক গল্প বলে তাঁর প্রশংসনীয় অধ্যবসায়। গত ছয় বছরের টেস্ট পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতি বছরই তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। ২০২১ সালের ৪৪৩ রান কিংবা ২০২২ সালের ৪৬৫ রান কেবল সংখ্যা নয়, এগুলো ছিল খাঁটি লড়াকু মানসিকতার একেকটি মহাকাব্য।

২০২৩ সালে ৫০ এর বেশি গড়ে ৩৫৫ রান কিংবা ২০২৫ সালের ৫০৩ রান প্রমাণ করে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাঁর ব্যাটের ধার আরও বেড়েছে। যখনই দল খাদের কিনারে পড়েছে, তখনই মুশফিক হয়ে উঠেছেন বাইশ গজের এক শান্ত জাদুকর, যিনি নিখুঁত টেকনিকে প্রতিপক্ষের বোলারদের শাসন করেছেন।
চলতি ২০২৬ সালেও তিনি আছেন তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ফর্মে। এখন পর্যন্ত ৬৩.২৫ এর চোখধাঁধানো গড়ে ২৫৩ রান তুলে তিনি জানান দিচ্ছেন, কেন তাঁকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘ডিপেন্ডেবল’ বলা হয়। উইকেটে তাঁর উপস্থিতি মানেই গ্যালারিতে হাজারো বাংলাদেশি ভক্তের মনে এক অদ্ভুত স্বস্তি।
ক্লান্তিহীনভাবে বছরের পর বছর দলের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হয়ে থাকা এই মানুষটি তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এক পরম অনুপ্রেরণা। মুশফিকের ব্যাটিং দেখে দেখেই লিটন দাস-নাজমুল হোসেন শান্তরা দলের ভার নেওয়া শিখছেন। তিনি যেন এক নিঃসঙ্গ শেরপা, যিনি দলকে টেনে চলেন চূড়ার দিকে।

সামনে আরও কঠিন সব সিরিজ, প্রতিপক্ষের হুঙ্কার আর নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু যতদিন বাইশ গজে ব্যাট হাতে গার্ড নেবেন মুশফিকুর রহিম, ততদিন বাংলাদেশ ক্রিকেট বুক ফুলিয়ে লড়াই করার সাহস পাবে। দেশ হোক কিংবা বিদেশের মাঠ, মুশফিকই থাকবেন লাল-সবুজের ব্যাটিংয়ের আসল চালিকাশক্তি।










