ব্যাটারদের যুগেও এক ব্যতিক্রমী চরিত্র

কথিত আছে, ব্যাটাররা ম্যাচ জেতায়, আর বোলাররা জেতায় টুর্নামেন্ট। ভুবনেশ্বরও তা-ই করলেন।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মানেই তো এখন চার-ছক্কার ধুমধাড়াক্কা আর বোলারদের ওপর নির্মম অত্যাচার। কিন্তু এই রান পাহাড়ের যুগেও যে একজন বোলার একা হাতে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন, তিনিই ভুবনেশ্বর কুমার। কথিত আছে, ব্যাটাররা ম্যাচ জেতায়, আর বোলাররা জেতায় টুর্নামেন্ট। ভুবনেশ্বরও তা-ই করলেন।

বর্তমান আইপিএল মানেই ব্যাটারদের দাপট। ফ্ল্যাট উইকেট আর ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের কারণে বোলারদের অবস্থা নাজেহাল। এই আসরেই বেশ কয়েকজন ব্যাটার পাঁচশত থেকে সাতশত রান ছাড়িয়েছেন। সেখানে ১৬ ম্যাচে ৭.৯৫ ইকোনমি রেটে ২৮টি উইকেট নেওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য!

​বোলারদের এই নাজেহাল অবস্থার মাঝেও নিজের কৌশলে সূক্ষ্ম রূপান্তর এনেছেন ভুবনেশ্বর। স্বয়ং শচীন টেন্ডুলকার তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। শচীনের মতে, এবার ভুবনেশ্বর বেশি সুইং না করিয়ে বল সোজা রাখছেন এবং ‘ওবল সিম’ দিয়ে ব্যাটারদের প্রতিনিয়ত দ্বিধায় ফেলছেন।

ভুবনেশ্বর কুমার শুধু খেলায় নয়, মাঠের বাইরের গভীর জীবনবোধেও অনন্য। ২০২২ সালের পর থেকে তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। এই বয়সেও এমন পারফর্ম করার রহস্য নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বেশ চমৎকার উত্তর দেন।

​তিনি বলেন, ‘মোটিভেশন শব্দটা বড্ড বেশি ওভাররেটেড। যে জিনিসটা আমাকে প্রতিদিন টানে, সেটা হলো শৃঙ্খলা। আমার বাড়িতে একজন ব্যক্তিগত ফিজিও ও ট্রেনার আছেন, যারা আমার সাথে কঠোর পরিশ্রম করেন।’

​ক্রিকেটের এই নতুন ব্যাকরণ আর পেশীশক্তি প্রদর্শনের যুগে ভুবনেশ্বর কুমার যেন কোনো এক শান্ত অপরাহ্নের নাম। যখন বাইশ গজের চারিপাশে শুধুই তাণ্ডবের কোলাহল, তখন তিনি বল হাতে তুলে নিয়ে ছড়িয়ে দেন শিল্পের ধ্রুপদি সুবাস।

পরিসংখ্যান হয়তো তার ২৮টি উইকেটের হিসাব রাখবে, কিন্তু ক্রিকেট রোমান্টিকদের হৃদয়ে জমা থাকবে তার ওই সুইংয়ের মায়াজাল। ৩৬ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ক্রিকেটটা এখনো পেশীশক্তির চেয়ে মগজের আর মেধার খেলা। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, শরতের আকাশের মতোই শান্ত আর মায়াবী থেকেও আধুনিক টি-টোয়েন্টির বুক চিরে চ্যাম্পিয়নের সিংহাসন ছিনিয়ে নেওয়া যায়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link