আক্রমণভাগকে নিয়ে অনেক শঙ্কা মনে রেখে হেক্সার মিশনে মাঠে নামবে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের লড়াইতে এবার চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে নেইমার জুনিয়রকে। নানা প্রশ্ন আর দুর্বলতা নিয়ে বিশ্বকাপের দীর্ঘযাত্রার শুরুতেই এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সেলেওসাওদের।
নেইমারকে ছাড়া সেলেসাওদের মূল পরীক্ষাটা দিতে হবে তাদের খামখেয়ালী আক্রমণভাগ নিয়ে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিংবা রাফিনহারা নিজ নিজ ক্লাবে রাজত্ব করলেও, জাতীয় দলের হলুদ জার্সিতে এখনও একসাথে ক্লিক করতে পারছেন না। কোচ কার্লো আনচেলত্তির এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, ক্লাব পর্যায়ের তারকাদের ব্যক্তিগত একক নৈপুণ্যকে এক সুতোয় বেঁধে নিখুঁত টিমপ্লে বের করে আনা।
আক্রমণের পাশাপাশি ব্রাজিলের রক্ষণভাগও এবার বেশ নড়বড়ে। প্রীতি ম্যাচে পাওয়া ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন রাইট-ব্যাক ওয়েসলি। ডিফেন্সে ডানদিকের এই দুর্বলতার কারণে যেকোনো ছোট ভুলেই বড় মাশুল গুণতে হতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের, যেখানে দানিলোর অভিজ্ঞতাই এখন কোচের একমাত্র বড় ভরসা।

অন্যপ্রান্তে আফ্রিকার সিংহ মরক্কোও কিন্তু ইনজুরির হাত থেকে রেহাই পায়নি। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নায়েফ আগুয়ের্দ এবং উইঙ্গার আবদে ইজ্জালজৌলি চোটের কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকেই ছিটকে গেছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে কাঁধের চোটে পড়া নুসাইর মাজরাউইকে নিয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে মরক্কো শিবিরকে।
তবে ইনজুরির ধাক্কা থাকলেও ব্রাজিলকে কোনোভাবেই ছেড়ে কথা বলবে না মরক্কোর লড়াকু ফুটবলাররা। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি আর ফর্মে থাকা ব্রাহিম দিয়াজের পা ধরে তারা যেকোনো আনচেলত্তির দলকে চমকে দিতে প্রস্তুত। দিয়াজ আর ইসমাইল সাইবারিদের নিয়ে গড়া মরক্কোর গতিময় আক্রমণভাগ ব্রাজিলের নড়বড়ে ডিফেন্সের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারে।
প্রথমবারের মতো বিদেশি কোচ নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে নামা ব্রাজিলকে নিয়ে ভক্তদের মনে প্রচুর আশা। তবে ভয়ের পরিমাণটাও কম নয়। নেইমারহীন ব্রাজিল কি পারবে সব শঙ্কা উড়িয়ে মরক্কোর বাধা টপকাতে, নাকি কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও নতুন রুপকথার জন্ম দেবে মরক্কো?











