এমবাপ্পের কাছে সব সম্ভব!

প্রথমার্ধ পুরোটাই নিস্তেজ কেটেছে এমবাপ্পের। একটা কিছু হচ্ছিল না, কোথাও যেন গড়মিল। বিরতিতে যাওয়ার পরেই নিজেকে মেরামত করে নিলেন। এরপর সেই পরিচিত সত্তাকে ফিরিয়ে আনলেন সেনেগালের সামনে।

দুনিয়ার সব অসাধ্য সাধন করার ক্ষমতা আছে কিলিয়ান এমবাপ্পের। ক্ষমতা আছে এক মুহূর্তে সবাইকে বোকা বানিয়ে দেওয়ার। ৬৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙলেন আর যোগ করা সময়ের পাঁচ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অবিশ্বাস্য এক দূরপাল্লার শট নিয়ে ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে দিলেন। শুধু কি তাই, ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের সিংহাসনে বসলেন তিনি। এমবাপ্পে বলেই তো এসব সম্ভব!

প্রথমার্ধ পুরোটাই নিস্তেজ কেটেছে এমবাপ্পের। একটা কিছু হচ্ছিল না, কোথাও যেন গড়মিল। বিরতিতে যাওয়ার পরেই নিজেকে মেরামত করে নিলেন। এরপর সেই পরিচিত সত্তাকে ফিরিয়ে আনলেন সেনেগালের সামনে।

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মাইকেল ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান এমবাপ্পে। এটা যে হওয়ার ছিল। অনন্য এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে এমবাপ্পে গোল পাবেন না, তা কি করে হয়? তবে ওটা যেন ট্রেলার, আসল কাজটা করলেন অতিরিক্ত সময়ের পাঁচ মিনিটের মাথায়।

বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট, ওটাই লক্ষ্যভেদ করে দিল, স্বাভাবিকতার সবটা যেন খসে পড়ল। সেনেগাল শুধু দেখল এমবাপ্পের অসম্ভবকে সম্ভব করার ম্যাজিক।

এই গোলের মাধ্যমে ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে ৫৮-তে। ফলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে থাকা অলিভিয়ে জিরুর রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন এই ফরাসি অধিনায়ক।

মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়া এমবাপ্পে প্রমাণ করেছেন কেন তিনি সেরা। তবে শুধু জাতীয় দলের ইতিহাস নয়, এমবাপ্পে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছেন বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরাদের তালিকাতেও।

সেনেগালের বিপক্ষে করা দুই গোল করে বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৪ গোলের মালিক বনে গেলেন তিনি। তাঁর সামনে এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের নামের পাশে আছে ১৬ গোল। ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজন আর মাত্র দুটো গোল।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের দিকে তাকালে বিষয়টি আরও বেশি বিস্ময় জাগায়। কারণ অধিকাংশ কিংবদন্তি ফুটবলার চার কিংবা পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেও ক্লোসের রেকর্ডের কাছাকাছি যেতে পারেননি। অথচ এমবাপ্পে এখনও নিজের ক্যারিয়ারের সেরা সময় অনেকটাই সামনে রেখে সেই রেকর্ড ভাঙার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি করে ফেলেছেন। এমবাপ্পে বলেই যে এসব অসাধ্য সাধন সম্ভব।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link