ভুল শুধরে নিতে জানে ফ্রান্স, অনিশ্চয়তার অন্ধকার যখন ঘিরে ধরে, সময়মতো মশাল জ্বালাতে পারে এই ফ্রান্স। তাই তো প্রথমার্ধে কোথাও না থেকে দ্বিতীয়ার্ধের সবটা নিজেদের করে নিল তারা। সেনেগালকে উড়িয়ে দিল ৩-১ গোলের ব্যবধানে।
শুরু থেকেই ফ্রান্স বলের দখল ধরে রাখার চেষ্টা করলেও আক্রমণভাগে ছিল না কোনো সমন্বয়। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে কিংবা অন্য তারকা ফুটবলাররা নিজেদের ব্যক্তিগত দক্ষতার ঝলক দেখানোর চেষ্টা করেছেন ঠিকই, কিন্তু দলীয় ছন্দের অভাব ছিল স্পষ্ট। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে বল নেওয়ার ক্ষেত্রে বারবার সমস্যায় পড়েছে ফরাসিরা। ফলে সেনেগালের রক্ষণভাগকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।
অন্যদিকে সেনেগাল শুরু থেকেই খেলেছে সাহসী ফুটবল। দ্রুতগতির আক্রমণে বারবার ফ্রান্সের রক্ষণে চাপ তৈরি করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে কাউন্টার অ্যাটাকে তারা ছিল ভয়ংকর। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসন প্রায় গোল পেয়ে গিয়েছিলেন। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট ফরাসি গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও শেষ পর্যন্ত পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

জ্যাকসনের সেই প্রচেষ্টাই ছিল প্রথমার্ধের সেরা সুযোগ। শুধু এটিই নয়, আরও একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে শেষ মুহূর্তে এসে ইসমাইলা সার সময়-সুযোগ পেয়েও সদ্ব্যবহার করতে পারেননি।
বিরতি শেষে ফিরে এসে দুই দলই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করেছে সমানতালে। তবে ফ্রান্সের গতির সঙ্গে পেরে ওঠা কি আর চাট্টিখানি কথা। ম্যাচের ডেডলক ভাঙে ৬৬ মিনিটে। আবারও সেই মুখ্য ভূমিকায় কিলিয়ান এমবাপ্পে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে সেনেগালের জাল কাঁপিয়ে দেন।
পরের গোল পেতে ফ্রান্সকে অপেক্ষা করতে হয় ১৬ মিনিট। বদলি হিসেবে নামা ব্রাডলি বারকোলা এসেই দুই গোলের লিড এনে দেন। ওটাই একেবারে ছিটকে ফেলে সেনেগালকে। যদিও ইব্রাহিমা এমবায়ে অতিরিক্ত সময়ে একটি গোল শোধ দেন, তবে সেটা কোনো কাজেই আসেনি। পরমুহূর্তেই এমবাপ্পের দূরপাল্লার শট আছড়ে পড়ে সেনেগালের জালে। তাতেই ৩-১ গোলের জয় নিয়ে কোনো অঘটন না ঘটিয়েই দাপটের সঙ্গে মাঠ ছাড়ে এমবাপ্পে-ওলিসেরা।











