ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিশ্বকাপে পা রেখেছিলেন শিরোপা নিয়ে ঘরে ফিরবেন বলে, কিন্তু, এই কদিনেই দেখতে হচ্ছে দলের মধ্যে ভাঙন। পর্তুগাল যেখানে ছিল অন্যতম ফেভারিট, সেখানে এখন তাদের খেলা নিয়ে জন্ম হচ্ছে হাজারো প্রশ্নের। ৪১ বছর বয়সী মহাতারকার শেষ বিশ্বকাপ যাত্রা যেন শুরুতেই এক বড়সড় ধাক্কা খেল।
সংকটের শুরু হয় কঙ্গোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে পর্তুগালের ১-১ গোলের ড্র এবং সেই ম্যাচে রোনালদোর অফ-ফর্ম দিয়ে । এরপর তরুণ জোয়াও নেভেসের এক সাধারণ সাক্ষাৎকারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করা হয়। রোনালদোকে দলের অন্য সবার মতো সাধারণ একজন বলাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় তরুণ এই মিডফিল্ডারের জন্য।
মুহূর্তের মধ্যে পুরো ইন্টারনেট জুড়ে শুরু হয় রোনালদোর অন্ধ ভক্তদের তীব্র আক্রমণ ও ট্রোলিং। পরিস্থিতি আরও বিষাক্ত হয়ে ওঠে যখন খোদ রোনালদোর পরিবার আর তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভুয়া উক্তিকে সত্য মনে করে প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন। পর্তুগাল দলটা যেন এক অলিখিত গৃহযুদ্ধের মধ্যে পড়ে যায়।

মাঠের পারফরম্যান্সেও রোনালদোর চেনা জাদু এখন অনুপস্থিত। গোলস্কোরার হিসেবে তিনি যেখানে একসময় অনন্য ছিলেন, সময়ের সাথে সেই রূপ যেন মিইয়ে গিয়েছে। সমালোচকদের মতে, পর্তুগাল দল এখন আর সমষ্টিগত শ্রেষ্ঠত্বে খেলছে না, বরং তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে একজন ব্যক্তির রেকর্ড ধরে রাখার অন্তহীন এক ব্যর্থ চেষ্টায়।
উদ্বেগের এই আবহে পর্তুগিজ সমর্থকদের সিংহভাগই এখন রোনালদোকে শুরুর একাদশে দেখতে চান না। বরং, তাদের আশা কোচ রবার্ত মার্তিনেজ পরিকল্পনা সাজাবেন বাকি তরুণদের কথা মাথায় রেখে। রোনালদোর ভক্তরা আশা রাখছেন, অফ-ফর্ম আর গোল খরা কাটিয়ে নিজের স্বরূপে ফিরে আসবেন সিআরসেভেন।
কখনো বিশ্বকাপের সোনালী শিরোপার স্পর্শ না পাওয়া পর্তুগালের সামনে এবার ছিল শ্রেষ্ঠ সুযোগ। প্রতিভাবান আর ফর্মে থাকা সব তরুণদের নিয়ে গড়া এই দলে অভিজ্ঞতার ভার নিয়ে আছেন রোনালদো। মাঠের বাইরের সব বাধা-বিপত্তি বাদ দিয়ে নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলেই লড়াইয়ে এগিয়ে যাবে পর্তুগাল, আর হয়তো দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচে যাবে রোনালদোর।











