নেইমার ফিরলেন, ব্রাজিল জিতল!

আকাশে-বাতাসে একটাই শব্দ ঘুরেছে, নেইমার জুনিয়র ফিরছেন ফুটবল তল্লাটে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটার উত্তেজনা যে নিহিত ছিল ওখানেই। তবে ফলাফলও যে দরকার।

আকাশে-বাতাসে একটাই শব্দ ঘুরেছে, নেইমার জুনিয়র ফিরছেন ফুটবল তল্লাটে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটার উত্তেজনা যে নিহিত ছিল ওখানেই। তবে ফলাফলও যে দরকার। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জোড়া গোলে দাপট দেখিয়েই জিতেছে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, ব্রাজিল কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। টেবিল টপার হয়েই তারা যেতে চায় পরের রাউন্ডে। স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচে ড্রাইভিং সিটটা ব্রাজিলের। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই তাই নিজেদের ঝলক দেখায় ব্রাজিল, ঝলক দেখান ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

অবশ্য গোলটা একপ্রকার স্কটল্যান্ডের দেওয়া উপহার। রায়ানের চাপের মুখে ভুল করে বসেন ডিফেন্ডার। ওত পেতে থাকা ভিনির জন্য সেই সুযোগ গোলে পরিণত করা ছিল সময়ের ব্যাপার।

গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণে স্কটিশ রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছে তারা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে আবারও বল জালে পাঠান ভিনিসিয়াস। তবে ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হয় সেটা। ওটা যেন তাতিয়ে দেয়, তাঁকে আটকানোর স্পর্ধা আছে কার তখন?

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের দারুণ এক ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন ভিনিসিয়াস। প্রথমার্ধে ২-০ গোলের লিড সমেত আধিপত্য দেখিয়েই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড কিছুটা সাহসী হওয়ার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারেনি। বরং ম্যাচের ৬০ মিনিটে আসে শেষ পেরেকটি। দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে ব্রুনো নিজের দ্বিতীয় অ্যাসিস্টটি করেন। তাঁর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন ম্যাথুস কুনহা। ব্যাস, ওটাই সব নির্ধারণ করে দেয়।

পরের অপেক্ষাটা নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে। ৯৮১ দিন পর আবারও ফিরলেন হলুদ জার্সিতে। আবারও স্বপ্নের মঞ্চে রাখলেন সোনালি দুটি পা। বাকি সময়টা তাই সব আলো পড়েছে তাঁর ওপর। না, তিনি কোনো গোল করেননি, অ্যাসিস্টও আসেনি। তিনি শুধু ফিরে এসেছেন, এটাই জরুরি খবর। ব্রাজিলও জিতেছে ৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link