গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ফলে ২৮ জুন ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি আলবিসেলেস্তেদের জন্য অনেকটাই নিয়মরক্ষার। আর সেই সুযোগেই একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা লিওনেল মেসিকে ঘিরে। চলমান বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচেই পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে উঠে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সামনে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই থাকায় তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না টিম ম্যানেজমেন্ট। মাঠে নামার সম্ভাবনা থাকলেও পুরো ম্যাচ খেলবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
একইভাবে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকেও নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ডান হাতের আঙুলের চোট থেকে সেরে উঠলেও তাকে নিয়ে বাড়তি ঝুঁকি নেওয়ার পক্ষে নয় কোচিং স্টাফ। ফলে জর্ডানের বিপক্ষে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, নিয়মিত একাদশের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কেও বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। কারণ গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষ্য প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এখন স্কালোনির মূল ভাবনা নকআউট পর্বের জন্য দলের সেরা খেলোয়াড়দের সতেজ রাখা।
রক্ষণভাগে গঞ্জালো মন্তিয়েলের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝমাঠে দেখা যেতে পারে পারদেস, পালাসিওস কিংবা ভ্যালেন্তিন বার্কোকে। অন্যদিকে আক্রমণভাগে লাউতারো মার্টিনেজের পরিবর্তে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ।
এছাড়া তরুণ নিকো পাজ, সিমিওনে ও লো সেলসোর মতো ফুটবলাররাও সুযোগ পেতে পারেন। বিশেষ করে মেসি যদি শুরু থেকে মাঠে না নামেন, তাহলে আক্রমণভাগের সৃজনশীল দায়িত্বের বড় অংশ নিকো পাজের কাঁধে যেতে পারে।

তবে একাদশে যত পরিবর্তনই আসুক, স্কালোনির লক্ষ্য থাকবে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। কারণ বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ছন্দ ধরে রাখা অনেক সময় বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু নিয়মরক্ষার নয়, বরং আর্জেন্টিনার বেঞ্চ শক্তি এবং স্কোয়াডের গভীরতা যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, স্কালোনি কতটা রোটেশন করেন এবং মেসি-এমিদের বিশ্রাম দিয়ে নকআউটের জন্য কতটা সতেজ দল গড়ে তুলতে পারেন।












