ট্রিয়নডার ফাঁদে পড়েছেন গোলরক্ষকেরা!

অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেখতে বলটি সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে গোলরক্ষকদের। তাঁরা কোনোভাবেই যেন ট্রিয়নডার গতি বুঝতেই পারছেন না।

বিশ্বকাপের মহমঞ্চে এবার গোলরক্ষকদের আসল শত্রু কোনো স্ট্রাইকারের বোকা বানানো শট নয়, বরং স্বয়ং ফুটবলই! কঠিন কঠিন সব সেভ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নানা দলের তারকা গোলরক্ষকরা গোলপোস্টের নিচে রীতিমতো নাকাল হচ্ছেন। সাধারণ শটগুলোও কেন যেন তাদের হাতের আঙুল গলে জালে জড়িয়ে যাচ্ছে। 

অন্যান্য আসরগুলোর মতো এবারের বিশ্বকাপের বলও বানিয়েছে বিখ্যাত স্পোর্টসব্র্যান্ড অ্যাডিডাস। তাদের বানানো ট্রিয়ন্ডা নামের নতুন সব প্রযুক্তিসম্পন্ন বল দিয়ে মাঠে লড়ছে ৪৮ দেশ। ছোট এই গোলকের মধ্যেই আছে শক্তিশালী চিপ। যা থেকে কন্ট্রোলরুমে পাঠানো ডাটা রেফারিদের নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেখতে বলটি সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে গোলরক্ষকদের। তাঁরা কোনোভাবেই যেন ট্রিয়নডার গতি বুঝতেই পারছেন না। বুটের স্পর্শ পেয়ে বলটি যতটা গতিময় মনে হয়, গোলপোস্টের কাছাকাছি এসে তার চেয়েও বহুগুণ বেশি গতিতে ছুটে যাচ্ছে। সেকারণে গোল হচ্ছে প্রচুর। আগের তিন বিশ্বকাপে এখানে ম্যাচপ্রতি গড়ে ২.৭ এর নিচে গোল হয়েছে সেখানে, এবারের প্রতিটা ম্যাচে গোল হচ্ছে গড়ে তিনটি করে।  

এই রহস্যের বৈজ্ঞানিক সমাধান দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের গবেষকরা। উইন্ড টানেলে পরীক্ষা করে তারা দেখেছেন, এই বলটিতে ‘ড্র্যাগ ক্রাইসিস’  নামক এক অদ্ভুত অ্যারোডাইনামিক প্রভাব কাজ করে। একটি নির্দিষ্ট গতিতে পৌঁছানোর পর বলের চারপাশের বাতাস মসৃণ অবস্থা থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে।

বাতাসের এই উত্তাল স্রোত বলের পেছনের বাধাকে বা ড্র্যাগকে ভেঙে দেয়, ফলে বলটি প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি গতিতে ছুটে যায়। ট্রিয়নডা বলের বিশেষ চার-প্যানেল বিশিষ্ট নকশা এবং গভীর সিমের কারণেই খুব কম গতিতেও এই ড্র্যাগ ক্রাইসিস অনায়াসেই ঘটে যাচ্ছে। আর এই কারণেই সহজেই যেসব শট আটকে ফেলা যেত সেগুলোতে গোল হজম করছেন গোলরক্ষকেরা। 

২০১০ সালের বিতর্কিত ‘জাবুলানি’ বলটি যেখানে বাতাসে হঠাৎ দিক বদল করে গোলরক্ষকদের বোকা বানাত, সেখানে এবারের ‘ট্রিয়নডা’ দিক না বদলে আচমকা গতি বাড়িয়ে তৈরি করছে এক নতুন ত্রাস। মাঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের খেলোয়ারদের চেয়েও বড় রহস্য হয়ে উঠেছে খোদ এই বলটি। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link