বড় নামের দলগুলোর আধিপত্যকে খর্ব করে দিয়ে বিশ্বকাপে এখন নিজেদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করছে ছোত দলগুলো। চলমান বিশ্বকাপে একের পর এক পরাশক্তিদের মাটিতে নামিয়ে এনেছে ফিফার র্যাংকিংয়ে তলানিতে থাকা দেশগুলো। কেপ ভার্দে, ঘানা কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলো রুখে দিয়েছে স্পেন, ইংল্যান্ড ও সাউথ কোরিয়ার মতো বিশ্বসেরাদের।
অনেকেই একে কেবল ভাগ্যের খেলা ভাবলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে নিখুঁত পরিকল্পনা ও ক্ষুরধার রণকৌশল। মাঠের চুলচেরা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই চমকপ্রদ ফলাফলের পেছনে রয়েছে এক অভিন্ন ডিফেন্সিভ প্যাটার্ন। বিশ্বসেরা দলগুলোর চেনা ফাঁদে পা না দিয়ে তারা মাঠে নেমে রচনা করেছে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর।
বিশ্বকাপ শিরোপার অন্যতম দাবিদার স্পেনের বিপক্ষে র্যাংকিংয়ের ৬৪ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে খেলেছিল ৪-৫-১ ফরমেশনে। তাদের রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের দূরত্ব এতটাই কম ছিল যে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডদের জন্য কোনো ফাঁকা জায়গাই ছিল না। স্পেন বারবার বল পেছনে পাস দিয়ে তাদের লোভ দেখালেও, কেপ ভার্দে নিজেদের রক্ষণদূর্গ ছেড়ে একটুও নড়েনি।

ঠিক একই কৌশলে থমাস টুখেলের শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে রুখে দিয়েছে ঘানা। টুখেলের দল সাধারণত প্রতিপক্ষকে ওপরে ডেকে এনে পেছনে খালি জায়গা তৈরি করে আক্রমণ চালায়। কিন্তু, ঘানার ডিফেন্ডাররা নিজেদের পেনাল্টি বক্সের সামনে দুই লাইনের এক নিরেট দেয়াল তুলে দাঁড়িয়েছিল। যা ইংলিশদের সেই ফাঁদ সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেয়।
সাধারণত ছোট দল হিসেবে যাদের বিবেচনা করা হয়, তাদের এই খেলার স্টাইলটা একেবারে কোচিগ স্টাফের চিন্তার ফসল। যেখানে আক্রমণ করতে গেলে নিজেদেরই গোল হজমের ভয় থাকে, সেই জায়গায় ড্র নিয়ে বেরিয়ে আসাটাই লাভজনক। অর্থাৎ, আন্ডারডগ দলগুলো জেনেশুনেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে চরম ধৈর্য দেখিয়েছে।
নামের ভারে বড় হয়ে থাকা দলগুলো যেখানে মাঠে নামার আগে জয়ের হিসেব শুরু করে, সেখানে থমকে যেতে হয় ছোট দলগুলোর সামনে। ফুটবলের সবুজ মাঠে বড় আর ছোট দল বলে যে বাস্তবে কিছু হয় না সেটাই যেন আরও একবার প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে।











