রূপকথার এক নতুন গল্প ইনোসেন্টের!

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জিম্বাবুয়ের জার্সি গায়ে লাল বলের ক্রিকেটে অভিষেক হয় ইনোসেন্টের। মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই বাদ পড়ে যান রাডার থেকে।

তিন বছরেরও বেশি সময় পর জাতীয় দলে ফিরেই রূপকথার এক নতুন গল্প লিখলেন ইনোসেন্ট কাইয়া। জিম্বাবুয়ের তুলনায় শক্ত দল বাংলাদেশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলেও গোণায় ধরলেন না।  ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত সংস্করণ টেস্টে তুলে নিলেন নিজের প্রথম সেঞ্চুরি।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জিম্বাবুয়ের জার্সি গায়ে লাল বলের ক্রিকেটে অভিষেক হয় ইনোসেন্টের। মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই বাদ পড়ে যান রাডার থেকে। এরপর কেটে গেছে ১২০০ দিনেরও বেশি সময়। কিন্তু, ইনোসেন্ট হাল ছেড়ে দেননি।

বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েতে পূর্ণাঙ্গ সফরে গেলে পুনরায় দলে ডাক পান ইনোসেন্ট। আর এই সিরিজকেই যেন নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ নাট্যমঞ্চ হিসেবে প্রস্তুত করে নেন এই ওপেনার। একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন থেকেই যেন নিজেকে প্রধান চরিত্রে রূপান্তর করে ফেলেন ইনোসেন্ট।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ চাপে ছিল এমনিতেই। সেখানে মরার ওপর খাড়ার গা হয়ে উদয় হয় ইনোসেন্টের। প্রথম দিন থেকেই ভেস্তে দিতে থাকেন বাংলাদেশি বোলারদের সকল পরিকল্পনা।

ওপেনিং জুটিতে বেন কারানের সাথে ৮৯ রান যোগ করেন। আরেকটি অর্ধশত রানের জুটি খেলে সাজঘরে ফেরেন ব্রেন্ডন টেইলর। কিন্তু, থেমে যাননি ইনোসেন্ট। থেমে যাওয়ার জন্যে তিনি ব্যাট হাতে নামেননি। 

কাউন্টি কাঁপিয়ে হাসান মাহমুদের পেস কিংবা তাইজুল ইসলামের স্পিন, কোনো কিছুর সামনেই মাথা নোয়াননি। খেলে গেছেন পরম বিক্রমের সাথে। বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের লিড বাড়ানর পথে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি।    

সব গল্পেরই একসময় ইতি ঘটে। ইনোসেন্টেরও ঘটে। ২২৭ বলে ১৭ চারে ১৪০ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে ২২ গজ থেকে বিদায় নেন এই ওপেনার। জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক সময়ের ক্রিকেট বিবেচনায় এই ইনিংস যে আলাদা মর্যাদা পাওয়ার মতো তা বলাই বাহুল্য। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link