পর্তুগালের পতনের দুই নায়ক!

ড্রেসিংরুমে রোনালদো আর ব্রুনোর চাপা অসন্তোষের ইতিহাস অবশ্য একেবারে নতুন গল্প নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়েও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল।

পর্তুগালের জার্সিতে প্রথম বিশ্বকাপের তারকাটা তাঁরা এনে দিতে পারতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং ব্রুনো ফার্নান্দেস, কিন্তু, ভঙ্গুর সম্পর্কের কারণে সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে যাওয়ার পথে। বিশ্বজয়ের গল্প লেখার অপেক্ষায় থাকা এই দলটির অন্দরেই এখন এক নীরব মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। দুই তারকার মাঠের রসায়ন আর কৌশলগত দ্বন্দ্বই হয়তো পর্তুগালের বিশ্বকাপ জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

মাঠের পারফরম্যান্সে এই দুই মহারথীর ট্যাকটিক্যাল সংঘর্ষ এখন স্পষ্ট। ব্রুনো ফার্নান্দেসের ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ড কি রোনালদোকে সঠিক সার্ভিস দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, নাকি রোনালদো-কেন্দ্রিক অতিরিক্ত ক্রস-নির্ভর আক্রমণভাগের কারণে মাঝমাঠ তার চেনা ছন্দ হারাচ্ছে—এই অফফিল্ড বিতর্ক এখন টালমাটাল করে তুলেছে পর্তুগিজ ফুটবলকে।

রোনালদো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রধান তারকা দেড় দশকের বেশি সময় ধরে। গত কিছু বছরে ব্রুনো ফার্নান্দেসও হয়ে উঠেছেন মিডফিল্ডারদের মধ্যে সেরাদের সেরা। কিন্তু, পর্তুগালের জার্সিতেই তাঁরা নিজেদের ছন্দ দেখাতে পারছেন না এক হয়ে। নিজেদের অহমিকার কারণে তাঁরা যেমন সেরাটা দিতে পারছেন না, তেমনি দল হিসেবে ভুগতে হচ্ছে পর্তুগালকেও।

 

মূল সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে কোচ রবার্তো মার্তিনেজের রক্ষণশীল রণকৌশলে। পর্তুগালের এই তারকাখচিত শক্তিশালী মাঝমাঠকে সঠিকভাবে ব্যবহার না করে, আক্রমণভাগকে জোর করে রোনালদো-কেন্দ্রিক করে তোলার এই ভুল কৌশল পুরো দলের স্বাভাবিক ছন্দকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে।

ড্রেসিংরুমে রোনালদো আর ব্রুনোর চাপা অসন্তোষের ইতিহাস অবশ্য একেবারে নতুন গল্প নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়েও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। এই দুই মহাতারকার মধ্যকার অদৃশ্য দূরত্ব পর্তুগালকে মাঠের ভেতরে এক গভীর সংকটে ফেলছে।

পরস্পরের প্রতি প্রকাশ্যে ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও মাঠের এই ট্যাকটিক্যাল ভুল বোঝাবুঝি যেকোনো মুহূর্তে পর্তুগালের সাজানো বাগান ছারখার করে দিতে পারে। দুই কিংবদন্তির এই অহমিকার লড়াই এবং মাঠের ছন্দহীনতা যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে এই বিশ্বকাপ থেকেও পর্তুগালের বিদায় কেবল সময়ের ব্যাপার।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link