মাঠ থেকে ধীর পায়ে উঠে যাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। স্টেডিয়ামজুড়ে তখনও তাঁর নামের গর্জন। ঠিক সেই মুহূর্তে সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা স্বয়ং দিদিয়ের দেশম তাঁকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন। এক কিংবদন্তি যেন আরেক হতে যাওয়া কিংবদন্তির প্রতি সম্মান দেখাচ্ছেন। অবশ্য এমবাপ্পে যা করে চলেছেন, তাঁকে কুর্নিশ জানাতে বাধ্য গোটা ফুটবল দুনিয়াই।
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বচরাচর নিজের করে নিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই বিশ্বকাপ যেন ভবিষ্যতের এক ভবিষ্যদ্বাণী করে দিল, ফুটবল পেতে যাচ্ছে আরেকজন ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’।
সুইডেনের সামনে যে এক ঝড় আসবে, তা তো অনুমেয় ছিল। তবে প্রতাপশালী আক্রমণভাগ নিয়েও গোল আসছে না। কী করার! এমবাপ্পে যেন বললেন, ‘ভয় কী, আমি তো আছি।’ তাঁর হাত ধরেই ৪৫ মিনিটের মাথায় এলো প্রথম গোল। ওটাই শুরুর গল্প লিখল, ‘এমবাপ্পে’ নামক ভয়ের গল্প লিখল।

তবে তাঁর তৃপ্তি মেটেনি। দুইয়ের ঘরে নামতা যেন মাঠজুড়ে পড়ে চলছেন। গোল করলে সেটা জোড়াই হতে হবে প্রতি ম্যাচে। ৭৪ মিনিটে আরেকবার আরেকটা চোখধাঁধানো ফিনিশিং, জোড়া গোল পূর্ণ হলো। স্বার্থপরতার মুকুট মাথায় পরে শুধু গোলই নয়, অ্যাসিস্টও করেছেন একটা, গ্রুপ পর্বেও নামের পাশে সংখ্যাটা ছিল দুই।
চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ছয়। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন লিওনেল মেসিকে। দুজনেরই গোল সমান ছয়টি। আর সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমবাপ্পের মোট গোল এখন ১৮। অর্থাৎ লিওনেল মেসির ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে তিনি মাত্র এক গোল দূরে। অচিরেই যে সিংহাসন ছিনিয়ে নেবেন, তা সবাই জানে, সবাই মানে।
২০১৮ থেকে বিস্ময়কর যাত্রা শুরু করেন ফুটবলে। উদীয়মান তারকার খেতাব জিতে নেন। ২০২৬ সালে এসে তিনি ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের মালিক। ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চটা অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। তিনি যে দিনবদলের গান লিখছেন ফুটবল মাঠে বসে। রেকর্ডের চূড়ায় বসে ২৭ বছর বয়সকে স্রেফ উপহাসের ছলে বলছেন, ‘আমায় ছোঁয়ার সাধ্য কী তোর?’

হয়তো অনেক বছর পর ফুটবল ইতিহাসের পাতায় ফিরে তাকালে এই বিশ্বকাপকেই মনে হবে সেই মুহূর্ত, যখন পৃথিবী বুঝে গিয়েছিল, এই গল্পটা সাধারণ একজন সুপারস্টারের গল্প নয়, বরং সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের উত্থানের অধ্যায় ছিল। যার নামটা কিলিয়ান এমবাপ্পে। সময় চাইলেও যে উচ্চতা ছুঁতে পারবে না।










