আর্লিং হাল্যান্ডই শেষ ভরসা!

নিজের জাতীয় দলকে সমর্থন করার সৌভাগ্য হয়নি কখনো। সেখান থেকেই পণ করেছিলেন, নরওয়েকে আমিই বিশ্বকাপে নিয়ে যাব, শুধু তাই নয়, ৮৬ মিনিটে একটা গোল করে এনে দেব শেষ ষোলোর টিকিট।

শৈশবের প্রতিটি বিশ্বকাপ ছিল আর্লিং হাল্যান্ডের জন্য এক অদ্ভুত আফসোসের গল্প। টেলিভিশনের সামনে বসে অন্য দেশের পতাকা হাতে নিতে হতো। কারণ, তাঁর নিজের দেশ নরওয়ে সেখানে থাকত না। নিজের জাতীয় দলকে সমর্থন করার সৌভাগ্য হয়নি কখনো। সেখান থেকেই পণ করেছিলেন, নরওয়েকে আমিই বিশ্বকাপে নিয়ে যাব, শুধু তাই নয়, ৮৬ মিনিটে একটা গোল করে এনে দেব শেষ ষোলোর টিকিট।

আইভরিকোস্টের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে যেন কোথাও ছিলেন না তিনি। দানবীয় সত্তার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়নি। তিনি শুধু দেখেছেন, অপেক্ষা করেছেন দলের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মুহূর্ত কখন আসবে।

সেটা এসেছে ৮৬ মিনিটে। নরওয়ের দেওয়া প্রথম গোলটা যখন আইভরিকোস্ট শোধ দিল, তখনই দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ছেয়ে গেল নরওয়ের নীল আকাশে। একের পর এক আক্রমণে চালকের আসনে তখন আফ্রিকান দলটি।

তবে ওত পেতে থাকা হাল্যান্ডের কাছে সুযোগ আসতেই তিনি চিনিয়ে গেলেন নিজের জাত। প্যাট্রিক বার্গের নিখুঁত পাস, আর তারপর হাল্যান্ডের সেই চিরচেনা ঠান্ডা মাথার ফিনিশ। এক আলতো ছোঁয়াতেই বল জড়িয়ে গেল জালে। সেই একটি গোলই লিখে দিল নরওয়ের ভাগ্য।

এই নিয়ে অভিষেক বিশ্বকাপের তিন ম্যাচেই পাঁচ গোল করেছেন। বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর স্ট্রাইকারের যে তকমাটা গায়ে লেপ্টে ছিল, বড় মঞ্চে সেটারই বাস্তব প্রমাণ দিয়ে গেলেন। অবশ্য এই নরওয়ের এতদূর আসার পেছনে অবদানটা তাঁরই। বাছাইপর্ব থেকে টেনে এনেছেন বিশ্বকাপে, গ্রুপপর্বে গোল করে দলকে উড়ন্ত সূচনা দিয়েছেন, আর এবার নকআউটের প্রথম ধাপেও শেষ কথা বললেন তিনিই।

এখন কোনো নরওয়েজিয়ান শিশুকে নিশ্চয় আর টিভির সামনে বসে অন্য দেশের দল সাপোর্ট করতে হবে না, আক্ষেপ থাকবে না কারও মনে—এই নরওয়ে কেন বিশ্বকাপ খেলে না। হাল্যান্ড যে সব বদলে দিয়েছেন, ম্যাজিকম্যান হয়ে নরওয়েকে ভাসিয়েছেন আনন্দের জোয়ারে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link