চলতি বিশ্বকাপ থেকে প্যারাগুয়ের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে জার্মানির বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। বড় ব্যবধানের জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও দলটির অধিকাংশ তরুণ ও অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্রমান্বয়ে আত্মবিশ্বাসের সংকট ও সিদ্ধান্তহীনতার নির্মম প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন বহু ফুটবল বোদ্ধা।
সবশেষ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর লড়াইয়েও প্রথাগত জার্মান আধিপত্যের ছিঁটেফোঁটা দেখা যায়নি জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যদের খেলায়। অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে ৩-২ ব্যবধানে হেরে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিতে হয়।

আর এই টাইব্রেকার নিয়েই যত বিপত্তি। পেনাল্টি শ্যুটআউটের শেষ দিকে ষষ্ঠ পেনাল্টি নিতে অনীহা দেখান জার্মানির চার ফুটবলার। খেলোয়াড়দের ভঙ্গুর মনোভাবের চিত্র এটি। বিশ্বকাপের মতো জায়গায় এই সিদ্ধান্তহীনতারই খেসারত দিতে হয়েছে ডাই ম্যানশ্যাফটদের।
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড-এর দাবি, গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের সেভে পাঁচ শট শেষে সমতা ফেরার পর লিওন গোরেৎসকা, ভালডেমার আন্টন, নাথানিয়েল ব্রাউন ও মালিক থিয়াও পেনাল্টি নিতে আত্মবিশ্বাস পাননি।
অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ দুবার অনুরোধ করলেও ৭২ আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞ গোরেৎসকা তা নাকচ করলে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন ডিফেন্ডার জোনাথন টাহ। তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন থেমে যায় জার্মানির।

অথচ জার্মানি বিশ্বকাপ শুরু করেছিল কুরাসাওকে তাদের ‘ট্রেডমার্ক ৭-১’ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়, ইকুয়েডরের কাছে হার এবং বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারে হেরে জার্মানির বিদায় নেওয়া বলে দেয় তাদের সংকটের মূলে ছিল আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি আর সিদ্ধান্তহীনতা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য সেটিই হয়ে উঠেছে বুমেরাং।










