বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আগে ব্রাজিল শিবিরে নেমেছে দুশ্চিন্তার ছায়া। জাপানের বিপক্ষে জয় এলেও সেই ম্যাচই কেড়ে নিয়েছে দলের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা লুকাস পাকেতাকে। এখন প্রশ্ন একটাই, নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কে পাবেন সেই দায়িত্ব?
জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাঁ পায়ের উরুর পেছনের পেশিতে চোট পান পাকেতা। হাঁটতেই কষ্ট হচ্ছিল তাঁর। বিরতির সময় সতীর্থদের সহায়তায় মাঠ ছাড়েন তিনি, পাশে ছিলেন নেইমারও। পরদিন নিউ জার্সিতে করা স্ক্যানে নিশ্চিত হয়, এটি পেশির গুরুতর চোট।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, পাকেতার নিবিড় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শুরু হয়েছে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, সুস্থ হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগতে পারে। ফলে বিশ্বকাপের বাকি পথ কার্যত শেষ এই সেলেচাও মিডফিল্ডারের।
এই ধাক্কায় কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নতুন পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচেই শুরুর একাদশে থাকা পাকেতার অনুপস্থিতি শুধু একজন খেলোয়াড়ের ঘাটতি নয়, পুরো কৌশল বদলে দেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে অ্যানচেলত্তিকে।

সবচেয়ে স্বাভাবিক বিকল্প হতে পারেন দানিলো সান্তোস। সীমিত সময়ে একই পজিশনে খেলে ইতোমধ্যে নিজের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তবে আনচেলত্তি চাইলে সৃজনশীলতার জন্য নেইমারের দিকেও ঝুঁকতে পারেন। সেক্ষেত্রে আক্রমণের ধার বাড়লেও প্রেসিং ও রক্ষণে পাকেতার মতো পরিশ্রমী উপস্থিতি হারাবে ব্রাজিল।
আরেকটি সম্ভাবনা আছে এন্দ্রিককে ঘিরে। জাপানের বিপক্ষে তাঁকেই নামিয়েছিলেন আনচেলত্তি। তখন মাতেউস কুনিয়াকে কিছুটা নিচে নামিয়ে চারজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়ে ভিন্ন ছক সাজিয়েছিলেন ইতালিয়ান কোচ।
তবে চমক হয়ে উঠতে পারেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিও। জাপানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকায় খেলেন এবং দেখিয়ে দেন, প্রয়োজন হলে মাঝমাঠ ও আক্রমণের সংযোগসূত্রও হতে পারেন।
নিউ জার্সির অনুশীলনেই পরিষ্কার হবে আনচেলত্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, পাকেতার শূন্যতা পূরণ করা শুধু একজন বদলি নামানোর ব্যাপার নয়, বরং ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে নতুন ভারসাম্যে দাঁড় করানোর লড়াই।











