মেসির টানা দ্বিতীয় শিরোপা নাকি এমবাপ্পের প্রত্যাবর্তন?

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা আর কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স কি আবার মুখোমুখি হবে ফাইনালে? ২০২২ কাতারের সেই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি দেখতে হলে দুই দলকেই পার হতে হবে কঠিন এক পরীক্ষা।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফেভারিটের তালিকায় ঘুরেফিরে ছিল কয়েকটি বড় নাম—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন আর পর্তুগাল। তারকাখচিত স্কোয়াড, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আর অভিজ্ঞতার কারণে এই দলগুলোকেই ধরা হচ্ছিল ট্রফির মূল দাবিদার। কিন্তু মাঠে নেমেই সেই হিসাব বদলে যেতে শুরু করে।

ব্রাজিলের গল্প থেমেছে অপ্রত্যাশিতভাবে, পর্তুগালও হারিয়েছে নিজেদের পথ। তাদের ফাঁকা জায়গা পূরণ করেছে নরওয়ে, ইংল্যান্ড আর বেলজিয়াম। এই বিশ্বকাপ যেন প্রমাণ করে দিচ্ছে—কাগজে-কলমের নাম নয়, মাঠের লড়াইটাই আসল।

তাহলে প্রশ্ন একটাই—লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা আর কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স কি আবার মুখোমুখি হবে ফাইনালে? ২০২২ কাতারের সেই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি দেখতে হলে দুই দলকেই পার হতে হবে কঠিন এক পরীক্ষা।

আর্জেন্টিনা আছে এমন এক পথে, যেখানে সেমিফাইনালে অপেক্ষা করছে নরওয়ে-ইংল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ী। নরওয়ে এবারের সবচেয়ে বড় চমক—ব্রাজিলের মতো দলকে বিদায় করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে তারা। ইংল্যান্ডও কম যায় না, মেক্সিকোর মাটিতে চাপ সামলে জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে। দুই দলই মুখোমুখি হবে কোয়ার্টার ফাইনালে, তাই তাদের মধ্যে একজনই টিকে থাকবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হয়ে। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, লড়াইটা সহজ হবে না। তবে মেসির হাতে আছে একটা বড় অস্ত্র—অভিজ্ঞতা। চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রাখা, বড় ম্যাচে দলকে টেনে নেওয়ার ক্ষমতা, এখনো তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

ফ্রান্সের পথটা আরও কঠিন। প্রথম বাধা মরক্কো, যারা গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে সবাইকে চমকে দিয়েছিল। সেই বাধা পেরোলে অপেক্ষা করছে স্পেন অথবা বেলজিয়াম। স্পেনের শক্তি বল দখলে রেখে খেলা, বেলজিয়ামের শক্তি অভিজ্ঞ তারকারা। তবে ফ্রান্সের বড় ভরসা তাদের স্কোয়াডের গভীরতা—এমবাপ্পে ছাড়াও দলে আছে একাধিক ম্যাচ উইনার, যে কেউ যেকোনো সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।

তাহলে কি সত্যিই দেখা যাবে মেসি বনাম এমবাপ্পে? সম্ভাবনা আছে, তবে পথ মসৃণ নয়। এই বিশ্বকাপে চমকের সংখ্যা এত বেশি যে নরওয়ে, ইংল্যান্ড, স্পেন কিংবা বেলজিয়ামকে বাদ দিয়ে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করাই ঝুঁকিপূর্ণ।

আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স যদি নিজেদের বাধা পেরিয়ে আসতে পারে, তাহলে নিউইয়র্কের ফাইনালে আবার দেখা যেতে পারে মেসি বনাম এমবাপ্পে—এক প্রজন্মের দুই সেরা তারকার লড়াই। হয়তো এটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ, যেখানে তিনি লিখতে পারেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের রূপকথা। নাকি ২০১৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ হাতে তুলবেন এমবাপ্পে? তবে ফুটবলের আসল সৌন্দর্য এখানেই—এখানে কোনো স্ক্রিপ্ট আগে থেকে লেখা থাকে না। হয়তো নতুন কোনো নায়কই দাঁড়িয়ে যাবে এই স্বপ্নের ফাইনালের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link