গোল না করেও লিওনেল মেসি ছিলেন

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসি কোনো গোল করতে পারেননি। পারেননি শেষ মুহূর্তে কোনো ম্যাজিক দেখিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে। তারপরও মেসি ছিলেন, শুধু থাকাই নয়। রেকর্ডও এসেছে তাঁর পা থেকে।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসি কোনো গোল করতে পারেননি। পারেননি শেষ মুহূর্তে কোনো ম্যাজিক দেখিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে। তারপরও মেসি ছিলেন, শুধু থাকাই নয়। রেকর্ডও এসেছে তাঁর পা থেকে।

বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে রাউন্ড অফ সিক্সটিন পর্যন্ত যে ছেলেটা টানা নয় ম্যাচে গোল করে এসেছিল, আজ তার পায়ে গোল নেই। অথচ, মাঠ ছাড়ার সময় লিওনেল মেসির নামটাই সবচেয়ে বড় হয়ে থাকল স্কোরবোর্ডে।

ক্যানসাস সিটিতে শুরুটা হয়েছিল তার পা থেকেই। দশ মিনিটের মাথায় ডান দিক থেকে বাড়ানো নিখুঁত এক ক্রসে মাথা ছোঁয়ালেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, বল জড়াল সুইজারল্যান্ডের জালে। মেসির শরীরী ভাষায় তখনও সেই পুরনো তাড়না—নিজে গোল করার, প্রতিপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার। কিন্তু গোটা ম্যাচে চার বার প্রতিপক্ষের গোলমুখে শট নিয়েও জাল খুঁজে পাননি এবার। এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোলহীন থাকলেন তিনি।

তাতে অবশ্য গল্পের নায়ক বদলায়নি। দশ জনের সুইজারল্যান্ডকে আটকাতে যখন আর্জেন্টিনা রীতিমতো ঘাম ঝরাচ্ছে, তখন মেসির সেই একটামাত্র অ্যাসিস্টই হয়ে দাঁড়াল ম্যাচের ভিত্তি। বাকিটা সারলেন হুলিয়ান আলভারেজ আর লাউতারো মার্টিনেজ, অতিরিক্ত সময়ে জোড়া গোলে যবনিকা টানলেন লড়াইয়ের।

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, উনচল্লিশ পেরোনো একজন ফুটবলার এখনও প্রতিটা ম্যাচে দলের আক্রমণের প্রাণভোমরা হয়ে থাকেন। গোল না পেলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণকে টানতে থাকেন নিজের দিকে, আর সেই ফাঁকেই সুযোগ তৈরি হয় সতীর্থদের জন্য। আজকের ম্যাচে সেটাই আরেকবার প্রমাণ হলো—মেসি গোল না করলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণ থেমে থাকে না, বরং তিনিই সেই সুতোটা ধরে রাখেন যা দলকে জয়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

এখন অপেক্ষা আটলান্টার, যেখানে আগামী বুধবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। প্রশ্ন একটাই—ফাইনালের পথে এই যে ধকল সইছে শরীরটা, শেষ পর্যন্ত কতদূর টেনে নিতে পারবে সে নিজের কিংবদন্তিকে?

 

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link