এমবাপ্পে-ইয়ামাল দ্বৈরথ!

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার কে? উত্তরে যে কেউ সবার আগে যে নামটি নেবে, সেটা ফ্রান্স। আর ঠিক পরের নামটাই স্পেন। আর এই দুই দলের একটি বিদায় বলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সেমিফাইনালের মহারণ যে সেই অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে।

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার কে? উত্তরে যে কেউ সবার আগে যে নামটি নেবে, সেটা ফ্রান্স। আর ঠিক পরের নামটাই স্পেন। আর এই দুই দলের একটি বিদায় বলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সেমিফাইনালের মহারণ যে সেই অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কে বাদ পড়বে, কেই-বা টিকে থাকবে, কার অবস্থান শক্তপোক্ত, একটু খতিয়ে দেখার চেষ্টা করা যাক।

দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স এবার যেন নিখুঁত এক মেশিন। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচ জিতেছে তারা। নকআউট পর্বে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকেও ২-০ ব্যবধানে বিদায় করেছে। পুরো আসরজুড়ে আক্রমণ ও রক্ষণ দুই বিভাগেই ছিল চোখধাঁধানো ভারসাম্য। প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ না দিয়েই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে লে ব্লুরা।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্যই কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করতেও দারুণ কার্যকর তিনি। তাঁর সঙ্গে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, বারকোলা সবাই রয়েছেন আগুনে ফর্মে। এমবাপ্পে তো সেরা পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন ইতোমধ্যেই।

অন্যদিকে স্পেন আবার খেলছে নিজেদের চিরচেনা দর্শন নিয়েই। বলের দখল, ছোট ছোট পাস আর অবিরাম প্রেসিং, এই তিন অস্ত্রেই প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে বিদায় করে তারা।

যদিও স্পেনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লামিন ইয়ামাল। গোলসংখ্যা দিয়ে তাঁকে বিচার করলে ভুল হবে। ডান প্রান্তে তাঁর গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার ক্ষমতাই স্পেনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তাঁর সঙ্গে ফ্যাবিয়ান রুইজ, নিকো উইলিয়ামস, পেদ্রি ও পাউ কুবার্সিরা মিলে গড়ে তুলেছেন দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল।

দুই দলের সাম্প্রতিক ইতিহাসও স্পেনের পক্ষেই কথা বলে। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল লা রোহা। আবার ২০২৫ সালের নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ৫-৪ গোলের ম্যাচেও জয় পেয়েছিল স্প্যানিশরাই। ফলে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে থাকবে ইয়ামালের দল।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চ আলাদা। অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং বড় ম্যাচ সামলানোর দক্ষতায় ফ্রান্স এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। অপরদিকে স্পেন খেলছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবল। একদিকে এমবাপ্পের বিধ্বংসী গতি, অন্যদিকে ইয়ামালের শিল্পীসুলভ ফুটবল, এই দ্বৈরথই হতে যাচ্ছে আসরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আর শেষ হাসিটা কে হাসে, সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুটা সময়।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link