আর্জেন্টিনা বলেই সম্ভব!

সংকটে সর্বদা সচল, বিপদের দিনে বুকভরা সাহস, এসবই আর্জেন্টিনার রসদ। সেমিফাইনালে যে তারা এসেছিল, ফাইনালে পা রাখল, এটা আর্জেন্টিনা না হয়ে যদি অন্য কেউ হতো তবে গল্পটা দাঁড়ি টেনে দিত রাউন্ড অব ৩২-এই।

সংকটে সর্বদা সচল, বিপদের দিনে বুকভরা সাহস, এসবই আর্জেন্টিনার রসদ। সেমিফাইনালে যে তারা এসেছিল, ফাইনালে পা রাখল, এটা আর্জেন্টিনা না হয়ে যদি অন্য কেউ হতো তবে গল্পটা দাঁড়ি টেনে দিত রাউন্ড অব ৩২-এই। মানসিক শক্তি, আর একতা যাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে তারা কি আর হার মানে সহজে? আর এখন তো তারা সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে বসে আছে।

গত পাঁচ-ছয় বছরের ধারাবাহিক সাফল্য আর্জেন্টিনাকে এমন এক মানসিকতা গড়ে দিয়েছে, যেখানে ম্যাচ যত কঠিনই হোক, তারা বিশ্বাস হারায় না। একের পর এক বড় ম্যাচ জেতা, ট্রফি জেতা, প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসা—এসব অভিজ্ঞতা তাদের শিখিয়েছে, শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো ম্যাচ শেষ নয়।

একটু পেছনে ফিরে যাওয়া যাক। গ্রুপ পর্বে উড়তে থাকা আর্জেন্টিনার সামনে নকআউটে হিমালয়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার গোল শোধ করা, অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে গোল করা, ১২০ মিনিটে খেলা নিয়ে যাওয়া। আর্জেন্টিনার সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল ওই পুচকে দলের সাথেই। সেটা উতরে যান লিওনেল মেসিরা।

শেষ ষোলো। আর্জেন্টিনার শেষটা ওখানেই দেখে ফেলেছিল সবাই। মিশর রীতিমতো ধাক্কা দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে প্রায় ফেলে দিয়েছিল। তবে রেলিং বেয়ে যেন উঠে এলো তারা। সবটুকু দিয়ে শুরু করল প্রত্যাবর্তনের সূচনা। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, অবিশ্বাস্য রকম মানসিক দৃঢ়তা না থাকলে ওটা সম্ভব না।

সুইজারল্যান্ডও কি কম ভুগিয়েছে? এগিয়ে থেকেও গোল হজম, এরপর ১২০ মিনিটের লড়াই। শেষ মুহূর্তে গিয়ে আরও একবার গর্জন তোলা। প্রতিটা মুহূর্তে তারা বিশ্বাস করেছে, প্রতিটা মুহূর্তে তারা নিজেদের একই সুরে গেঁথেছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তো আর্জেন্টিনাকে হিসাবের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন অনেকে। সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক ছিল। নকআউটে যে ধাঁচে আর্জেন্টিনা খেলেছে ফুটবলটা এরপর ফাইনালে যাওয়া একপ্রকার বিলাসিতার সামিল। তবে আবারও মনে করিয়ে দিই, দলটার নাম যে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০তে পিছিয়ে থেকে ছয় মিনিটের ব্যবধানে লিড নিয়ে ম্যাচ জেতা। এটাকে আপনি কী বলবেন? কোন বিশেষণে বিশেষায়িত করবেন?

এটাই এই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় পরিচয়। তারা হয়তো পুরো ৯০ মিনিট সেরা ফুটবল খেলতে পারে না, অনেক সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও হারায়। কিন্তু যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, তখনই নিজেদের সেরাটা বের করে আনে। যার পেছনে কাজ করে এক হার না মানা বিশ্বাস। অবশ্য জেতাটাকে যারা অভ্যাসে পরিণত করে, তাদের কাছে পরাজয়টা আসতে ভয় পায়।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link