অবশেষে ব্যাট হাসল আইয়ারের

ইংলিশ বোলারদের তোপের মুখে যখন একে একে ব্যাটাররা অসহায় আত্মসমর্পণ করছেন, ঠিক তখনই ২২ গজে আবির্ভাব শ্রেয়াস আইয়ারের।

কার্ডিফের আকাশ তখন মেঘাচ্ছন্ন। ভারতীয় ড্রেসিংরুমেও শঙ্কার কালো মেঘ। হাফ সেঞ্চুরি করা বিরাট কোহলি প্যাভিলিয়নে ফিরতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছিল টিম ইন্ডিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ। ইংলিশ বোলারদের তোপের মুখে যখন একে একে ব্যাটাররা অসহায় আত্মসমর্পণ করছেন, ঠিক তখনই ২২ গজে আবির্ভাব শ্রেয়াস আইয়ারের।

গত নয় মাস অদ্ভুতভাবে শান্ত থাকার পর অবশেষে আবার হাসল তার ব্যাট। ২০২৫ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে শেষবার চেনা ছন্দে দেখা মিলেছিল তার। এরপর ইনজুরি থেকে ফিরে সঙ্গী হয়েছিল নিরুত্তাপ ফর্ম আর একরাশ সমালোচনা। কিন্তু কার্ডিফে ১৬ জুলাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভাগ্য দেবী যেন তাঁর জন্য এক ভিন্ন মহাকাব্য লিখে রেখেছিলেন।

একপ্রান্তে যখন উইকেট পতনের মিছিল, অন্যপ্রান্তে তখন ইস্পাত দৃঢ় আইয়ার। ৭১ বলে ৬৬ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস খেলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন ফেরার সময় হয়েছে তার। পাঁচটি ক্ল্যাসিক বাউন্ডারি আর দুটি আকাশছোঁয়া ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি কেবল স্কোরবোর্ডে লড়াকু রান যোগ করেনি, জুগিয়েছে ড্রেসিংরুমে লড়াইয়ের রসদও।

বিরাট কোহলির বিদায়ের পর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে একা হাতেই তিনি টেনে তোলেন দলকে। ইংল্যান্ডের পেসারদের গতি আর সুইংয়ের মরণকামড়ের বিপরীতে একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তার প্রতিটি শট যেন নীরব সব সমালোচনার মোক্ষম জবাব।

গাস অ্যাটকিনসনের বলে ইংলিশ উইকেট রক্ষক জস বাটলারের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরার আগে তার রানের বদৌলতেই থ্রি লায়ন্সদের দিকে ২৩৪ রানের লড়াকু লক্ষ্য ছুড়ে দেয় মেন্স ইন ব্লুজরা।

কার্ডিফের সবুজ গালিচায় ধ্বংসস্তূপের বুক চিরে ফিনিক্স পাখির মতো ডানা মেললেন আইয়ার। ঘোষণা করলেন ছন্দে ফেরার প্রত্যয়। সময়ই বলে দেবে তিনি এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবেন কি-না।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link