আজকের ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির জন্ম যেভাবে

বিশ্বকাপ শেষে আজও যখনই কোনো দল ট্রফি উঁচিয়ে ধরে, তখন তা শুধু বিজয়ীদের স্মারক থাকে না। এর সঙ্গে জেগে ওঠে মিলানের সেই শিল্পীর চিরন্তন শিল্পকলা। যাতে মিশে আছে ফুটবল আত্মার কোটি কণ্ঠস্বর আর আবেগের স্রোতধারা!

প্রত্যেক আসর শেষে কয়েক জোড়া হাত যখন সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরে, থমকে যায় পুরো পৃথিবী। কোটি কোটি ভক্তের উচ্ছ্বাস, স্বপ্ন আর দীর্ঘশ্বাস মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় একটি বিন্দুতে। এরই নাম ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের শ্রেষ্ঠতম স্মারক।

কিন্তু জানেন কি, ফুটবলের এই পরম আরাধ্য সম্পদটির জন্ম হয়েছিল কীভাবে? কেই-বা এই অপরূপ ট্রফিটির স্রষ্টা?

গল্পটা ১৯৭০ সালের। ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে তখনকার প্রচলিত জুলে রিমে ট্রফিটা চিরতরে নিজেদের করে নেয়। দেখা দেয় নতুন এক চ্যাম্পিয়নশিপ আইকনের প্রয়োজনীয়তা।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রদর্শিত ট্রফি।

ফিফাকে ট্রফির এই ঝক্কি থেকে বাঁচাতে প্রতিযোগিতায় নামেন বিশ্বের ৫০ জন নামী শিল্পী। দেখান তাদের হাতের অমোঘ সব কারুকাজ। কিন্তু ইতালির মিলান থেকে আসা ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগার শৈলী যেন হয়ে উঠল সবার চেয়ে অনন্য।

অন্যরা কেবল কাগজে নকশা জমা দিলেও, গাজ্জানিগা তৈরি করেন আস্ত একটি ত্রিমাত্রিক মডেল। তাঁর চোখে ট্রফি মানে শুধু সোনা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ গল্পের বাহক। মডেলে তিনি ফুটিয়ে তোলেন দুই মানবমূর্তি, যারা ডিএনএ-র মতো প্যাঁচানো ছন্দে পৃথিবীকে আগলে তুলে ধরেছে আকাশের দিকে। গাজ্জানিগার ভাষায়, এটি অ্যাথলেটদের বিজয়, ভক্তদের উন্মাদনা আর মাঠের সংগ্রামের এক সম্মিলিত প্রতীক।

গাজ্জানিগার ১৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই মাস্টারপিসটি ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনা দিয়ে গড়া। এর নিচে থাকা সবুজ ম্যালাকাইট পাথরের বৃত্ত দুটি যেন ফুটবলের চিরচেনা সবুজ মাঠের প্রতিরূপ। বিংশ শতাব্দীতে মিলানের স্টুডিওতে নিভৃতে বসে গাজ্জানিগা যে স্বপ্নকে দৃশ্যায়িত করে তুলেছিলেন, সেটিই আজ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা।

২০১০ সালে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপা নিয়ে উদযাপন করছে স্পেন।

জুলে রিমে ট্রফি হারিয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। কিন্তু গাজ্জানিগার অমর সৃষ্টি টিকে আছে ফুটবলীয় আবেগ হয়ে। তাই বিশ্বকাপ শেষে আজও যখনই কোনো দল ট্রফি উঁচিয়ে ধরে, তখন তা আর শুধু বিজয়ীদের স্মারক থাকে না। এর সঙ্গে জেগে ওঠে মিলানের সেই শিল্পীর চিরন্তন শিল্পকলা। যাতে মিশে আছে ফুটবল আত্মার কোটি কোটি কণ্ঠস্বর আর আবেগের প্রবহমান স্রোত!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link