ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাব ইংল্যান্ডের সফলতম দলগুলোর একটি হলেও, এই শক্তিশালী ক্লাবটি ঠিক ৩০ বছর আগে পেয়েছিল ‘টিপিক্যাল সিটি’ তকমা! ১৯৯৬ সালে স্রেফ একটা ভুল তথ্যের খপ্পরে পড়ে সিটিজেনদের সেই করুণ ট্র্যাজেডির দিকে নজর ফেরানো যাক।
তারিখটা ছিল ৫ মে, ১৯৯৬। ইস্ট ম্যানচেস্টারের তখনকার হোম গ্রাউন্ড মেইন রোড স্ট্যাডিয়ামে লিভারপুলের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচ তাদের। অবনমন এড়াতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না তাদের সেদিন। কিন্তু প্রথমার্ধেই দুই গোল খেয়ে খাদের কিনারে চলে যায় অ্যালান বলের শিষ্যরা।
দ্বিতীয়ার্ধে আকাশি-নীলরা লেখে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। জর্জিও কিংক্লাদজ জাদুকরী ড্রিবলিংয়ে অলরেডদের রক্ষণ দুর্গ কাঁপিয়ে দেন। খানিক বাদেই উই রসলার-কিট সিমন্সের জোড়া আঘাতে সমতায় ফেরে সিটি। স্কোরলাইন ২-২। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন সিটিজেনদের গান আর উল্লাস। হাতে থাকা শেষ কয়েক মিনিটে কেবল একটি গোল দিলেই প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকবে তারা।

ঠিক এই মাহেন্দ্রক্ষণেই ফুটবল ইতিহাসের এক কুখ্যাত নাটকের শুরু। সাইডবেঞ্চে থাকা কেউ একজন হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন! দেন এক ভয়ানক ভুল তথ্য! সিটির সঙ্গে রেলিগেশনের দৌঁড়ে থাকা আরেক প্রতিপক্ষ সাউদাম্পটন নাকি হেরে গেছে! অর্থাৎ ড্র করলেই পরবর্তী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে খেলা নিশ্চিত সিটির!
কোচ অ্যালানও সেই গুজবকে বিশ্বাস করে ফেলেন। পাগলের মতো চিৎকার করে তিনি অধিনায়ক স্টিভ লোমাসকে নির্দেশ দেন স্রেফ কাল ক্ষেপণের। গুরুর কথামতো রসলার আর লোমাসও নিজেদের পায়ে বল ধরে রেখে অলস সময় কাটাতে থাকেন।
লিভারপুল ডিফেন্ডাররা তো অবাক! জেতা জরুরি এমন একটা দল কেন অহেতুক সময় নষ্ট করছে? ওদিকে ড্রেসিংরুমে বসে বিবিসি-তে সত্যটা জানতে পারেন ইনজুরি আক্রান্ত নিয়াল কুইন। সাউদাম্পটনের ম্যাচ আসলে তখনো গোলশূন্য ড্র ছিল।

কুইন হাফ-প্যান্ট পরেই সাইডলাইনে ছুটে আসেন সতীর্থদের সতর্ক করতে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রেফারির শেষ বাঁশি বেজে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যে ভুল ভাঙে গোটা দলের। স্রেফ একটা ভুল তথ্যের খপ্পরে পড়ে সেবার দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যেতে হয় সিটিকে।
এরপর মালিকানা বদলের পর প্রখ্যাত কোচ পেপ গার্ডিওলার ট্যাকটিক্স আর সোনালী প্রজন্মের সার্জিও অ্যাগুয়েরো, ভিনসেন্ট কোম্পানি, রদ্রি হার্নান্দেজ, জর্ডান পিকফোর্ড কিংবা আর্লিং হাল্যান্ডের মতো তারকারা গায়ে জড়ান আকাশি-নীল জার্সি। সিটির শোকেজে এখন তাই ১০টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, আছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিও। তবুও ১৯৯৬ সালের সেই ‘টিপিক্যাল’ ভুলের কথা কি সিটিজেনরা কখনো ভুলতে পারবেন?










