হ্যাজেলউডের ফেরা স্বস্তি নাকি দুশ্চিন্তা?

বাংলাদেশ কি স্বস্তিতে থাকবে, নাকি দুশ্চিন্তায় পড়বে জশ হ্যাজেলউডকে নিয়ে? প্রায় ১৩ মাস টেস্টের বাইরে থাকা অস্ট্রেলিয়ান এই পেসার একদিকে যেমন দীর্ঘ বিরতির কারণে ছন্দ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে আছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষেই দাঁড়িয়ে আছেন ৩০০ টেস্ট উইকেটের ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে। তাই তাঁর প্রত্যাবর্তন লিটন দাসদের জন্য যেমন স্বস্তির কারণ হতে পারে, তেমনি হয়ে উঠতে পারে বড় দুশ্চিন্তার কারণও।

২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর থেকে আর টেস্ট খেলেননি হ্যাজেলউড। হ্যামস্ট্রিং ও পেশির চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। সেই চোটের কারণেই সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজ থেকেও ছিটকে গিয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার। তবে এখন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও সাদা পোশাকে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আর সেই প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্ট। যদি সুযোগ আসে তবে ১৩ মাস পর মাঠে নামবেন তিনি। সেই কথা মাথায় রেখেই পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। ফেরার জন্য যে মুখিয়ে আছেন হ্যাজেলউড।

তবে এই সিরিজ শুধু প্রত্যাবর্তনের নয়, ইতিহাস গড়ার সুযোগও এনে দিয়েছে হ্যাজেলউডের সামনে। এখন পর্যন্ত ৭৬ টেস্টে তাঁর শিকার ২৯৫ উইকেট। অর্থাৎ বাংলাদেশের বিপক্ষে আর মাত্র পাঁচটি উইকেট পেলেই ৩০০ টেস্ট উইকেটের ক্লাবে জায়গা করে নেবেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম পেসার হিসেবে এই অনন্য কীর্তি গড়বেন তিনি।

এখানেই বাংলাদেশের জন্য শুরু হচ্ছে আসল পরীক্ষা। একদিকে দীর্ঘদিন টেস্ট না খেলায় হ্যাজেলউডের ম্যাচ ছন্দ নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন থাকতেই পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসে আগের ধার ফিরে পাওয়া কখনোই সহজ নয়। সেই দিক থেকে দেখলে বাংলাদেশের ব্যাটারা একটু স্বস্তি পেতেই পারেন।

কিন্তু একই সঙ্গে এটাও ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই, বড় মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রিকেটাররা প্রায়ই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেন। হ্যাজেলউডের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ নেই। অফ স্টাম্পের বাইরে নিখুঁত লাইন, বাড়তি বাউন্স আর অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণ তাঁকে বছরের পর বছর বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ফাস্ট বোলারে পরিণত করেছে।

তাই প্রশ্নটা থেকেই যায়—বাংলাদেশ কি স্বস্তিতে থাকবে, নাকি দুশ্চিন্তায়? স্বস্তির কারণ, প্রতিপক্ষের অন্যতম সেরা পেসার ফিরছেন দীর্ঘ বিরতির পর ফিরছেন। আর দুশ্চিন্তার কারণ, সেই পেসারের সামনে হাতছানি দিচ্ছে ৩০০ টেস্ট উইকেটের বিরল এক মাইলফলক।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link