কিউই বোলিং আভিজাত্যের গল্প

টেস্টে ৩১৭ আর ওয়ানডেতে ২১১ উইকেট শিকার করে ওয়াসিম আকরাম আর অ্যালান ডেভিডসনের মতো তারকাদের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন ১৯৮৯ সালে জন্মানো এই কিউই গতিদানব। আর এভাবেই রেকর্ড বই ছাপিয়ে বোল্টের বোলিং জাদু ক্রিকেটের চিরন্তন আভিজাত্যের গল্প হয়ে উঠেছে!

ক্রিকেটে বাঁ হাতে বল নিয়ে গতির জাদুতে যারা ২২ গজে দ্যুতি ছড়িয়েছেন, তাঁদের নামগুলো স্মরণ করলে যে কিউই বোলারের নাম উচ্চারণ না করলেই নয়—তা হলো ট্রেন্ট বোল্ট। তাঁর প্রতিটি ডেলিভারিতেই মিশে ছিল ধ্বংসাত্মক ইন-সুইং আর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের মহিমা।  টেস্ট ইতিহাসে বাঁহাতি ফাস্ট বোলারদের মধ্যে কেবল কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম গড় ও উইকেটের পরিসংখ্যানে তাঁর চেয়ে এগিয়ে।

মাঠে প্রসন্ন হাসি আর সমুদ্রতীরে কাটানো সার্ফিংয়ের শখের মুহূর্ত দেখে মনে হতে পারে বোল্ট বড্ড শান্ত স্বভাবের। কিন্তু এই লাজুক হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ইস্পাতকঠিন মানসিকতা।

ক্যারিয়ারের শুরুতে মেরুদণ্ডের চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল বোল্টকে। দুই বছর পর সেই কঠিন যুদ্ধ জয় করে ফিরে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করার সামর্থ্য তাঁকে দিয়েছে বিশেষত্ব। টেস্টে ৬ উইকেটে ৩০ রান  আর ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে ৩৪ এর মতো বোলিং ফিগার তাঁর বাঁ হাতের গতির ক্যারিশমাকে স্পষ্ট করে তোলে।

তবে বোল্টের এই মহাকাব্য যেন সতীর্থ টিম সাউদিকে ছাড়া অপূর্ণ। সাউদির সাথে তাঁর জুটি আধুনিক ক্রিকেটের এক বিস্ময়। পরিসংখ্যান বলছে, লিলি-থমসন কিংবা হল-গ্রিফিথের মতো কিংবদন্তি জুটির চেয়েও বোল্ট-সাউদি জুটির বোলিং ছিল দুর্দান্ত।

অকল্যান্ডে ইংল্যান্ডকে মাত্র ৫৮ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সেই স্মৃতি আজও সতেজ ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে। সেদিন বোল্টের ছয় উইকেটের বিষাক্ত ছোবলে নীল হয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটাররা। বাকি চার উইকেট নিয়ে কিউইদের বিজয় নিশ্চিত করেন সাউদি।

তবে নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমগুলো খুব একটা বোল্টের মতো তারকাদের প্রশংসায় অভ্যস্ত নয়। অবশ্য বোল্টের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য কোনো বাড়তি প্রচারণার দরকারও পড়ে না। ঘরে কিংবা বিদেশের মাটিতে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।

ক্যারিয়ার শেষে টেস্টে ৩১৭ আর ওয়ানডেতে ২১১ উইকেট শিকার করে ওয়াসিম আকরাম আর অ্যালান ডেভিডসনের মতো তারকাদের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন ১৯৮৯ সালে জন্মানো এই কিউই গতিদানব। আর এভাবেই রেকর্ড বই ছাপিয়ে বোল্টের বোলিং জাদু ক্রিকেটের চিরন্তন আভিজাত্যের গল্প হয়ে উঠেছে!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link