ক্রিকেটে বাঁ হাতে বল নিয়ে গতির জাদুতে যারা ২২ গজে দ্যুতি ছড়িয়েছেন, তাঁদের নামগুলো স্মরণ করলে যে কিউই বোলারের নাম উচ্চারণ না করলেই নয়—তা হলো ট্রেন্ট বোল্ট। তাঁর প্রতিটি ডেলিভারিতেই মিশে ছিল ধ্বংসাত্মক ইন-সুইং আর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের মহিমা। টেস্ট ইতিহাসে বাঁহাতি ফাস্ট বোলারদের মধ্যে কেবল কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম গড় ও উইকেটের পরিসংখ্যানে তাঁর চেয়ে এগিয়ে।
মাঠে প্রসন্ন হাসি আর সমুদ্রতীরে কাটানো সার্ফিংয়ের শখের মুহূর্ত দেখে মনে হতে পারে বোল্ট বড্ড শান্ত স্বভাবের। কিন্তু এই লাজুক হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ইস্পাতকঠিন মানসিকতা।
ক্যারিয়ারের শুরুতে মেরুদণ্ডের চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল বোল্টকে। দুই বছর পর সেই কঠিন যুদ্ধ জয় করে ফিরে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করার সামর্থ্য তাঁকে দিয়েছে বিশেষত্ব। টেস্টে ৬ উইকেটে ৩০ রান আর ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে ৩৪ এর মতো বোলিং ফিগার তাঁর বাঁ হাতের গতির ক্যারিশমাকে স্পষ্ট করে তোলে।

তবে বোল্টের এই মহাকাব্য যেন সতীর্থ টিম সাউদিকে ছাড়া অপূর্ণ। সাউদির সাথে তাঁর জুটি আধুনিক ক্রিকেটের এক বিস্ময়। পরিসংখ্যান বলছে, লিলি-থমসন কিংবা হল-গ্রিফিথের মতো কিংবদন্তি জুটির চেয়েও বোল্ট-সাউদি জুটির বোলিং ছিল দুর্দান্ত।
অকল্যান্ডে ইংল্যান্ডকে মাত্র ৫৮ রানে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সেই স্মৃতি আজও সতেজ ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে। সেদিন বোল্টের ছয় উইকেটের বিষাক্ত ছোবলে নীল হয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটাররা। বাকি চার উইকেট নিয়ে কিউইদের বিজয় নিশ্চিত করেন সাউদি।
তবে নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমগুলো খুব একটা বোল্টের মতো তারকাদের প্রশংসায় অভ্যস্ত নয়। অবশ্য বোল্টের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য কোনো বাড়তি প্রচারণার দরকারও পড়ে না। ঘরে কিংবা বিদেশের মাটিতে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।

ক্যারিয়ার শেষে টেস্টে ৩১৭ আর ওয়ানডেতে ২১১ উইকেট শিকার করে ওয়াসিম আকরাম আর অ্যালান ডেভিডসনের মতো তারকাদের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন ১৯৮৯ সালে জন্মানো এই কিউই গতিদানব। আর এভাবেই রেকর্ড বই ছাপিয়ে বোল্টের বোলিং জাদু ক্রিকেটের চিরন্তন আভিজাত্যের গল্প হয়ে উঠেছে!










