ব্যাট হাতে যিনি সাজাতেন সৌন্দর্যের পসরা

ভক্তদের হৃদয়ে তিনি পরিচিত ‘এশিয়ান ব্র্যাডম্যান’ নামেই। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে জহিরও সন্দিহান ছিলেন না! তাই ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাড্রেসে নিজেই ‘এশিয়ান ব্র্যাডম্যান’ শব্দবন্ধ যোগ করেছিলেন তিনি। এটা যে মোটেও বাড়াবাড়ি নয়, তা তাঁর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়!

ক্রিকেট যেন তাঁর কাছে কবিতা আর স্ট্রোকগুলো সব অমোঘ ছন্দ। সত্তর-আশির দশকে যখনই জহির আব্বাস ব্যাট হাতে ক্রিজে দাঁড়াতেন, তখনই তিনি সাজাতেন ক্রিকেটীয় ছন্দের দারুণ সব সৌন্দর্যের পসরা! তাঁর নান্দনিক স্ট্রোকে দুলে উঠত দর্শকদের মন, তৃপ্ত হত চোখ!

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ার ক্লাবেও এই পাকিস্তানি ব্যাটার ধ্রুপদী আভিজাত্যের খেলা দেখিয়েছেন। কিংবদন্তি ওয়ালি হ্যামন্ডের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন নিখুঁতভাবে। বড় বড় সেঞ্চুরি করার নেশা আর মাঠের বাইরে মিতভাষী স্বভাব যেন দুই কিংবদন্তিকে গেঁথে দিয়েছিল এক সুতোয়।

উপমহাদেশে জহির মানেই ছিল রানের এক অবিশ্বাস্য মহোৎসব। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ব্যাট হাতে শাসন করতে হয় ক্রিকেটে। ম্যান ইন ব্লুজদের বিরুদ্ধে লাহোর টেস্টে তিনি খেলেন ২১৫ রানের এক ক্যামিও ইনিংস।

ডন ব্র্যাডম্যান ও গ্লেন টার্নারের পর প্রথম অ-ইংরেজ ক্রিকেটার হিসেবে শততম প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরির মাইলফলক ছোঁয়ার কীর্তিও গড়েন জহির। ওই সিরিজের করাচি ও ফয়সালাবাদ টেস্টেও জহির ১৮৬ আর ১৬৮ রানের নান্দনিক দুই ইনিংস উপহার দেন।

ভারতের একই সফরে ওয়ানডেতেও টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকান এই কিংবদন্তি ব্যাটার। যা তাঁকে ক্রিকেট ইতিহাসের টানা পাঁচ ম্যাচে শতোর্ধ্ব রান করা খেলোয়াড়ে পরিণত করে।

টেস্টে ৫ হাজারের বেশি রান থাকলেও বিদেশের মাটিতে রেকর্ডটা খুব একটা উজ্জ্বল নয় ১৯৪৭ সালে শিয়ালকোটে জন্মানো জহিরের। তবুও ভক্তদের হৃদয়ে তিনি পরিচিত ‘এশিয়ান ব্র্যাডম্যান’ নামেই।

নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে জহিরও সন্দিহান ছিলেন না! তাই ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাড্রেসে নিজেই ‘এশিয়ান ব্র্যাডম্যান’ শব্দবন্ধ যোগ করেছিলেন তিনি। এটা যে মোটেও বাড়াবাড়ি নয়, তা তাঁর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link