ঝড়ের মুহূর্তে হাল ধরতেন যিনি

ভারতের অবহেলিত ক্রিকেটারদের তালিকায় ওপরের দিকেই রয়ে গেছেন যশপাল। তবু ঝড়ের মুহূর্তে শতভাগ উজাড় করে দলের হাল ধরে থাকার মানসিকতার জন্যই দায়িত্বশীল এক নাবিক হিসেবেই তাঁর নাম উচ্চারিত হবে তারকাদের ভিড়ে!

‘মাস্তুলে নুনের দাগ মুছে ফেলে দাঁড়াও আবার/ তোমার চলার দিক নির্ণীত হয়েছে বহু আগে!’ ঠিক এমনিভাবে যশপাল শর্মারও চলার দিক যেন আগেই নির্ণীত ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের তারকাদের সমুদ্রে!

স্পষ্টতই, মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে যশপালের পারফরম্যান্স বেশ গড়পড়তা ছিল অন্যান্যদের থেকে। তবে সংকটের মুহূর্তে কার্যকর ব্যাটিং করে দলকে বাঁচাতে তাঁর জুড়ি ছিল মেলা ভার! ১৯৮৩ সালে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের দৌঁড়ে দুই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সেটিরই প্রমাণ দেন যশপাল।

প্রথম ম্যাচে তখনকার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নেমেই নিজের জাত চেনান ১৯৫৪ সালের ১১ আগস্ট লুধিয়ানায় জন্মানো এই ব্যাটার। নয়টি বাউন্ডারি মেরে ওয়ানডেতে নিজের ক্যারিয়ার সেরা ৮৯ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন তিনি সেই ম্যাচে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ৪০ রানের খুদে এক প্রাণবন্ত ইনিংস খেলেন ‘শর্মাজি কা বেটা’।

তবে যশপাল সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অর্ধশতক করে। থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে ১১৫ বলে ৬১ রানের এক কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। হাঁকান তিনটি বাউন্ডারি ও দুটি ওভার বাউন্ডারি। আসরটিতে আট ম্যাচে ৩৪.২৮ গড়ে ২৪০ রান সংগ্রহ করেন স্থানীয়ভাবে “সাচিন” নামে পরিচিত এই ডানহাতি ব্যাটার। অবদান রাখেন ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে।

ক্যারিয়ারে ম্যান ইন ব্লুজদের হয়ে ৩৭ টেস্টে দুটি সেঞ্চুরি ও নয়টি হাফ সেঞ্চুরিসহ ১৬০৬ রান করেছেন যশপাল। ওয়ানডেতে পরিসংখ্যানটা ৪২ ম্যাচে ৮৮৩, গড় ২৮.৪৮। তবে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে দেড় শতাধিক ম্যাচ খেলে প্রায় ৯ হাজার রান ঝুলিতে নিয়েছেন তিনি।

কিন্তু এতকিছুর পরও ভারতের অবহেলিত ক্রিকেটারদের তালিকায় ওপরের দিকেই রয়ে গেছেন যশপাল। তবু ঝড়ের মুহূর্তে শতভাগ উজাড় করে দলের হাল ধরে থাকার মানসিকতার জন্যই দায়িত্বশীল এক নাবিক হিসেবেই তাঁর নাম উচ্চারিত হবে ভারতের তারকা ক্রিকেটারদের ভিড়ে!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link