মারারা স্টেডিয়ামের হালচাল!

২০০৪ সালের সেই টেস্টের পর আর কখনও এই মাঠে লাল বলের মহারণ দেখা যায়নি। ২২ বছর পর টেস্ট ফিরছে মারারার বুকে, ২৩ বছর আগের সেই দুর্বিষহ স্মৃতি মুছে ফেলতে পারবে তো বাংলাদেশ?

২০০৩ সাল, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফরের সাক্ষী হয়েছিল ডারউইনের মারারা স্টেডিয়াম। বছরখানেক বাদে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টেস্ট খেলে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৪ সালের সেই টেস্টের পর আর কখনও এই মাঠে লাল বলের মহারণ দেখা যায়নি। ২২ বছর পর টেস্ট ফিরছে মারারার বুকে, ২৩ বছর আগের সেই দুর্বিষহ স্মৃতি মুছে ফেলতে পারবে তো বাংলাদেশ?

মারারার উইকেটের প্রসঙ্গে একটু ঢু মেরে আসা যাক। অস্ট্রেলিয়ার অন্য মাঠ বা উইকেটের তুলনায় মারারা স্টেডিয়ামের উইকেটের গল্পটা একটু আলাদা। এটি সাধারণ স্থায়ী পিচ নয়, ড্রপ-ইন পিচ। মাঠের বাইরে প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করে স্টেডিয়ামের মাঝখানে এনে বসানো হয়। আরও মজার ব্যাপার, মারারার এই ড্রপ-ইন পিচটি দুই ভাগে ভাগ করে বছরের প্রায় ১০ মাস স্টেডিয়ামের বাইরে বিশেষ জায়গায় রাখা হয়। ২০০৩ সালে বাংলাদেশকে দিয়েই ডারউইনে প্রথম টেস্ট আয়োজনের সময় এই ‘স্প্লিট পিচ’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।

দুই দশকের বেশি সময় পর সেই ড্রপ-ইন পিচই আবার টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। তবে এর চরিত্র হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত গতিময় উইকেটের চেয়ে একেবারেই আলাদা। ডারউইনের গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে এই পিচ তুলনামূলক স্লো হতে পারে এবং বল নিচু হয়েও আসতে পারে। কিছুটা স্লো উইকেট হওয়ায় স্পিনারদের ভালো করার সুযোগ থাকবে বেশি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ হয়তো নিজেদের স্পিনারদের নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারে।

তবে উইকেটের চেয়েও বড় প্রশ্ন ডারউইনের কন্ডিশন। অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য টেস্ট ভেন্যুর সঙ্গে ডারউইনের সবচেয়ে বড় পার্থক্য এখানেই। এটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর প্রান্তের উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চল। অস্ট্রেলিয়ার শীতকালেও ডারউইনের আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ। আর বাংলাদেশের মতো উপমহাদেশীয় দলের কাছে এই আবহাওয়া একেবারে অপরিচিত নয়। গরম, আর্দ্রতা সব মিলিয়ে দীর্ঘ পাঁচ দিনের টেস্টে শারীরিক সক্ষমতারও বড় পরীক্ষা হবে।

আর এই মাঠের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার, মারারা ক্রিকেটকে শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য নয়, স্থানীয় ক্রিকেটেরও ঘর করে রেখেছে। নর্দার্ন টেরিটরি ক্রিকেট-এর ইতিহাস বলছে, ১৯৮৮ সালে তাদের সদর দপ্তরের মাঠে প্রথম ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজা খুলেছে। ২০০৩ সালে প্রথম টেস্ট, ২০০৪ সালে দ্বিতীয় টেস্ট; আর এখন ২০২৬ সালে আবার সেই লাল বলের ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন। মাঝে কেটে গেছে ২২টি বছর। সময়ের এই দীর্ঘ ব্যবধানই মারারা স্টেডিয়ামের গল্পটাকে আরও আবেগময় করে তোলে। ২০০৩ সালে যে মাঠ বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিল, ২০২৬ সালে সেই মাঠেই ফিরছে নতুন এক বাংলাদেশ।

২৩ বছর আগে যে মাঠে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের একটি অধ্যায় লেখা হয়েছিল, এবার সেই একই মাঠে নতুন অধ্যায় লেখার পালা। সেদিন কোন সুখস্মৃতি ছিল না, এবার কি সেটা অর্জন করতে পারবে বাংলাদেশ? ডারউইনের গরম বাতাস, মারারার সবুজ গালিচা, লাল বলের লড়াই ছাপিয়ে জয়ের হাসি হাসতে পারবে কি নাজমুল হোসেন শান্তর দল?

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link