অস্ট্রেলিয়ার পেস ত্রাস!

যেকোনো দিন যেকোনো প্রতিপক্ষকে অসহায় বানিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। আর এই ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে দেখাতে হবে টিকে থাকার ক্ষমতা। অস্ট্রেলিয়ার ভয়ঙ্কর পেস আক্রমণের সামনে কেমন হবে বাংলাদেশের পরিকল্পনা?

মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্স! ভয় পাওয়ার জন্য তিনটে নামই যথেষ্ট। যেকোনো দিন যেকোনো প্রতিপক্ষকে অসহায় বানিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। আর এই ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে দেখাতে হবে টিকে থাকার ক্ষমতা। অস্ট্রেলিয়ার ভয়ঙ্কর পেস আক্রমণের সামনে কেমন হবে বাংলাদেশের পরিকল্পনা?

একদিকে ৪৩৩ টেস্ট উইকেটের মালিক মিচেল স্টার্ক, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও নিখুঁত লাইন-লেন্থের জশ হ্যাজলউড। সঙ্গে অ্যাশেজে দারুণ ছন্দে থাকা স্কট বোল্যান্ড।  ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশের জন্য প্রথম লড়াইটাই হতে যাচ্ছে নতুন বলের বিরুদ্ধে।

তবে গল্পের সবচেয়ে মজার জায়গা হলো, অস্ট্রেলিয়ার এই পেসারদের সবাই একই অবস্থান থেকে সিরিজে ঢুকছেন না। বরং সাম্প্রতিক ফর্ম আর ফিটনেসের হিসাবেও রয়েছে ভিন্নতা। প্যাট কামিন্সকে দিয়েই শুরু করা যাক। চোটের কারণে অ্যাশেজের শুরুটা মিস করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। পরে অ্যাডিলেডে ফিরে মাত্র এক টেস্টেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন, ছয় উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে অ্যাশেজ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অর্থাৎ দীর্ঘ বিরতির পর ফিরলেও কামিন্সের ক্ষেত্রে ম্যাচের বাইরে থাকার সময়টা তার ধার কমিয়ে দিয়েছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই।

তারপর মিচেল স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সবচেয়ে বড় ম্যাচ-উইনারদের একজন। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জ্যামাইকায় মাত্র ১৫ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসে দ্রুততম পাঁচ উইকেটের রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই ম্যাচে তার শেষ পরিসংখ্যান ছিল ৬ উইকেট ৯ রান। একই সিরিজে ১০০ টেস্ট ও ৪০০ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।

অর্থাৎ স্টার্কের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের চ্যালেঞ্জটা শুধু গতি সামলানোর নয়। বাঁহাতি অ্যাঙ্গেল, নতুন বলে সুইং, পুরোনো বলে রিভার্স সুইং এবং হঠাৎ গতি বাড়িয়ে দেওয়া, সব মিলিয়ে একটি স্পেলেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন তিনি।

জশ হ্যাজলউডের গল্পটা আবার একটু ভিন্ন। চোটের কারণে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর আর কোনো টেস্ট খেলেননি তিনি। এমনকি পুরো অ্যাশেজ সিরিজও মিস করেছেন। এবার সেই দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ফিরছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। ফলে তার জন্য যেমন প্রত্যাবর্তনের পরীক্ষা, বাংলাদেশের জন্য তেমনই বড় বিপদ। কারণ বিশ্রাম থেকে ফেরা হ্যাজলউডও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কতটা ভয়ংকর হতে পারেন, সেটা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই।

আর এই জায়গাতেই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার নাম হতে পারে স্কট বোল্যান্ড। হ্যাজলউড ফিরেছেন ঠিকই, কিন্তু বোল্যান্ডকে একাদশের বাইরে রাখাটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত নয়। ২০২৫-২৬ অ্যাশেজের পাঁচ টেস্টেই খেলেছেন এই ডানহাতি পেসার। পুরো সিরিজে নিয়েছেন ২০ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে তিনি এখন আর শুধুই ব্যাকআপ নন। বরং মূল একাদশের জায়গার দাবিদার। তাই অস্ট্রেলিয়ার ম্যানেজমেন্ট মধুর সমস্যায় পড়লেও বাংলাদেশের সামনে একটাই প্রশ্ন,  কাকে রেখে কাকে সামলাবে দলটা?

কারণ চার পেসারের প্রত্যেকের বোলিংয়ের ধরন আলাদা। স্টার্ক বাঁহাতি, কামিন্স আক্রমণাত্মক গতি ও বাউন্সে ব্যাটারকে চাপে রাখেন, হ্যাজলউড একই জায়গায় বল করে ভুলের অপেক্ষায় থাকেন, আর বোল্যান্ডের সবচেয়ে বড় অস্ত্র তার নিয়ন্ত্রণ ও স্টাম্প-অ্যাটাকিং লাইন। একজনকে সামলে উঠতেই অন্য প্রান্ত থেকে শুরু হবে নতুন পরীক্ষা। সেই সাথে বিউ ওয়েবস্টার, ক্যামেরন গ্রিনরা ব্যাকআপ হিসেবে থাকছেনই। এমন বোলিং ইউনিটের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে একটাই, সেটা ধৈর্য ধরে টিকে থাকার চেষ্টা।

বাংলাদেশের ব্যাটারদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে নতুন বলের প্রথম ঘণ্টা। অফ স্টাম্পের বাইরের বল কতটা ছেড়ে দিতে পারবেন তারা, শর্ট বল কতটা নিয়ন্ত্রণে খেলতে পারবেন, আর শুরুতেই উইকেট হারানো থেকে কতটা নিজেদের বাঁচাতে পারবেন, সিরিজের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করতে পারে এসবের ওপর।

এবার একটু পেস আক্রমণ থেকে বেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য একাদশে নজর রাখা যাক। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড, এরপর মার্নাস লাবুশানে। অভিজ্ঞতার ঝুলি হাতে দেখা যাকে স্টিভ স্মিথকে। ক্যামেরন গ্রিন, বিউ ওয়েবস্টার ও উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি মাঝের সারিটাকে মজবুত করে তুলবেন। বল হাতে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গে পেস আক্রমণে মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড এবং স্পিনে নাথান লায়ন।

সব মিলিয়ে পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। তবে এসব ছাপিয়ে মাঠের লড়াইটাই মুখ্য। যেখানে বাংলাদেশকে ধৈর্য ধরা আর ভুল না করার পরীক্ষা দিতে হবে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link