২৩ বছর আগে সবশেষ যখন বাংলাদেশ টেস্ট খেলতে এসেছিল অস্ট্রেলিয়ায়, তখনকার সেই সফরের স্মৃতি ছিল তেতো। আজ ডারউইনের মাররা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ফেরার প্রথম দিনটাই বাংলাদেশ লিখে নিল নিজেদের নামে, গর্বের অক্ষরে।
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা মানেই যেখানে সাধারণত প্রথম ধাক্কা, সেখানে বাংলাদেশ উল্টো নিজেদের শর্তে খেলাটা টেনে নিল প্রথম সেশন থেকেই। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন — তিন পেসার মিলে জেক ওয়েদারাল্ড, ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেনদের একে একে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দিলেন লাঞ্চের আগেই। স্টিভেন স্মিথ একাই লড়লেন, দুই রানে তানজিদ হাসান তামিমের হাত থেকে জীবন পেয়ে ১০৯ বলে গড়লেন ৭১ রানের ইনিংস, কিন্তু তাকেও শেষ পর্যন্ত টলাতে পারলেন না হাসান মাহমুদ। শর্ট বলে চার্জ করতে গিয়ে ক্যাচ তুললেন লিটন দাসের হাতে।
আর সেখান থেকেই শুরু হাসানের মাস্টারক্লাসের চূড়ান্ত অধ্যায়। কেন্ট থেকে ফেরা এক অন্য হাসান মাহমুদ যেন এতদিন অপেক্ষায় ছিলেন এই মঞ্চের জন্যই। নাথান লায়নকে টপ-এজ করিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচে ফিরিয়ে তুলে নিলেন ছয় নম্বর উইকেট, বাংলাদেশের কোনো পেসারের টেস্ট ইতিহাসে যা সেরা বোলিং ফিগার। অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেল মাত্র ১৯৮ রানে। পুরো ইনিংসেই দশ উইকেট শিকার করলেন কেবল বাংলাদেশের পেসাররা — টেস্ট ইতিহাসে যা মাত্র দ্বিতীয়বার, এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে একবারই এমনটা হয়েছিল।

দিনের বাকি অংশে ব্যাট হাতেও বাংলাদেশ দেখাল প্রত্যয়ের ছাপ। সাদমান ইসলাম শুরুটা করেছিলেন ভালো, কিন্তু মিচেল স্টার্কের সুইং ডেলিভারিতে ২০ রানে ফিরলেন। এরপর তানজিদ হাসান তামিম আর মুমিনুল হক গড়লেন প্রতিরোধ, দুজনে মিলে অবিচ্ছিন্ন থেকে দিন শেষ করলেন ৯৬ রানে, বাংলাদেশ পিছিয়ে মাত্র ১০২ রানে।
তামিম নিজেও একটা জীবন পেয়েছিলেন, নাথান লায়নের হাত ফসকে যাওয়া সেই ক্যাচে, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপরাজিত থাকলেন ৩২ রানে। মোমিনুল খেললেন আরও সপ্রতিভ ইনিংস, ৪৯ বলে ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে ছাড়িয়ে গেলেন তামিম ইকবালকে, হয়ে উঠলেন মুশফিকুর রহিমের পর বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
২৩ বছরের অপেক্ষা শেষে ডারউইনে ফেরা বাংলাদেশ তাই প্রথম দিনটা শেষ করল মাথা উঁচু করেই। বোলিংয়ে দাপট, ব্যাটিংয়ে স্থিতি — একটা দিনেই যেন বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিল, এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরটা আগের মতো নয়। দ্বিতীয় দিনের সকালেও কি এই আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে তারা?












