নটরাজ এবাদতের প্রত্যাবর্তন

অস্ট্রেলিয়া অলআউট হল ১৯৮ রানে। হাসানের ছয় উইকেটের সাথে এবাদতের উইকেট মাত্র দু’টি। তবে, স্বস্তির মূল্যটা মাত্র দুই উইকেটের নয়। এ যে হাজার বছর অপেক্ষার পর আবারও আকাশের সেই চাঁদটা চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। আর সেই চাঁদের নাম এবাদত হোসেন।

ইনজুরি জর্জরিত এক বিমান সেনা। তাঁর হাত হয়ে আসা গোলাগুলো আজ আজ আর আগুন ঝরায় না। তবে, আজও সিমিং কন্ডিশনে তাঁর হার্ড লেন্থ ডেলিভারি ডেকে হিট করে ব্যাটারদের শরীর ধেয়ে আসে, তখন একটা শীতল অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে।

ত্রাস ছড়ানো ঘামের বিন্দু বেয়ে নামে ব্যাটারেদের হেলমেটের ফাঁক গলে। ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতির ডেলিভারি আজ অতীত। তবে, অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে এবাদতের নিরীহ দর্শন ১৩৫ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিও ভয় ধরায়, উইকেটের সুবাতাস ছড়ায় বাংলাদেশের মনে।

সেনা কন্ডিশন। ২০২২ সালের সেই নিউজিল্যান্ডের স্মৃতি। পারিবারিক দায়িত্ব পাশে রেখে এবাদত হোসেন অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন স্রেফ এই দু’টো কারণেই। নাহিদ রানার ইনজুরির ধকল না থাকলে এই এবাদতেরই ডারউইন টেস্টটা দেখতে হত দেশে বসে।

সেই এবাদত বুঝিয়ে দিলেন তিনি হারিয়ে দিলেন, ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার চোখে চোখ রেখে বলে দিলেন আজও তিনি প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরাতে জানেন। মার্নাস লাবুশেন কিংবা অ্যালেক্স ক্যারির উইকেট নিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার স্কিডি কন্ডিশনে তাঁর বোলিংয়ের বিপক্ষে কোনো জবাব ছিল না স্বাগতিকদের।

অস্ট্রেলিয়া অলআউট হল ১৯৮ রানে। হাসানের ছয় উইকেটের সাথে এবাদতের উইকেট মাত্র দু’টি। তবে, স্বস্তির মূল্যটা মাত্র দুই উইকেটের নয়। এ যে হাজার বছর অপেক্ষার পর আবারও আকাশের সেই চাঁদটা চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। আর সেই চাঁদের নাম এবাদত হোসেন।

Share via
Copy link