অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটা টেস্ট ড্র করা, বাংলাদেশের জন্য সেটাই হতে পারত ‘আদর্শ’ চাওয়া। কিন্তু, নাজমুল হোসেন শান্ত সেই সহজ আর নিরাপদ পথটা বেছে নেননি। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর প্রথম বড় সিদ্ধান্তটাই হল জিততে চাওয়ার সাহস দেখানো।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিততে হলে কী করতে হবে, সেটাও শান্ত খুব পরিষ্কারভাবেই বুঝেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার ২০ উইকেট নিতে হবে। আর ২০ উইকেট নিতে হলে দরকার অন্তত পাঁচজন কার্যকর বোলার। তাই একাদশ সাজানোর সময় একজন বোলারকে বিসর্জন দিয়ে ব্যাটিং শক্তি বাড়ানোর পথে যাননি তিনি। জয়ের জন্য কার্যকর হিসাব কষে তবেই ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়েছেন শান্ত।
মাঠের কৌশলেও সাহসীশান্ত। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা যখন কাভারের ওপর দিয়ে একের পর এক ড্রাইভ করতে শুরু করলেন, সীমানা খুঁজে নিতে থাকলেন, তখনও শান্ত কাভার বন্ধ করে দেননি, ডিফেন্সিভ অ্যাপ্রোচ নেননি।

অতিরিক্ত একজন ফিল্ডার এনে ওই জায়গাটা আটকে রাখেননি। বোলারদেরও বলেননি লাইন বদলে স্টাম্পের দিকে বল করতে কিংবা লেংথ ছোট করে ফেলতে। বরং নিজের পরিকল্পনায় থেকেছেন, বোলারকে তাঁর লেংথ ধরে রাখতে দিয়েছেন।
বিদেশের মাটিতে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংলিশ কন্ডিশনে গিয়ে এটাই তো অনেক উপমহাদেশীয় দলই প্রথমে ড্যামেজ কনট্রোলের পথ খোঁজে। শান্ত সেটা করেননি। বরং, বিশ্বাস রেখেছেন তাঁর বোলারদের ওপর। বিশ্বাস রেখেছেন যে, চার-ছয় খাওয়ার পরও তাঁরা নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে যাবেন না। বিশ্বাস রেখেছেন, একটা সময় সেই একই লেংথ থেকে ভুল বের করে আনা যাবে। আর শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসের ফলও এসেছে।
এই জায়গাটাতেই শান্তর অধিনায়কত্বের একটা আলাদা ছবি তৈরি হয়েছে। তিনি শুধু রান আটকানোর অধিনায়ক হতে চাননি, উইকেট নেওয়ার অধিনায়ক হতে চেয়েছেন।

আর বোলিং পরিবর্তনেও ছিল একই ধরনের চিন্তা। একজন পেসারকে এক প্রান্ত থেকে দীর্ঘ সময় বল করিয়ে যাওয়ার বদলে শান্ত বারবার বোলিংয়ে পরিবর্তন এনেছেন। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেত, এবাদত হোসেন—তিনজনই বোলিং পরিবর্তনের পর ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছেন।
৩৯ তম ওভারে আক্রমণে এসেই উইকেট পান তাসকিন। ৪৫ তম ওভারে এসে একই ভাবে উইকেট নেন হাসান। আক্রমণে আসার পর তৃতীয় ওভারেই অ্যালেক্স ক্যারিকে বোল্ড করেন এবাদত। এখানেই শান্ত তাঁর পরিকল্পনায় সফল। এক বোলারকে দিয়ে টানা চাপ তৈরি করে তারপর উইকেটের অপেক্ষায় থাকার বদলে শান্ত অন্য প্রান্ত থেকে নতুন অস্ত্র এনেছেন।
অজি কন্ডিশন এমনিতেই কঠিন। আর সেখানে জীবনের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে শান্ত অন্য এক গল্প লিখলেন। আর যাই হোক, তিনি ভয় পেয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন না। তিনি এমন এমন মানসিকতা দেখাচ্ছেন, যার আত্মবিশ্বাসে শারীরিভাষা বদলে গেছে গোটা বাংলাদেশ দলের।











