অজি সাম্রাজ্য কাঁপানো এক প্রলয়

ইংল্যান্ডের কাউন্টি মাঠে যে গল্পের শুরু, অস্ট্রেলিয়ার এই লালমাটির উইকেটে এসে সেটাই পূর্ণতা পেল। আর বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটে আজ যেন আরও একবার প্রমাণ হলো — ভরসার নামটা একটাই, হাসান মাহমুদ।

কেন্ট থেকে ফেরার পর থেকেই হাসান মাহমুদ যেন পুরোদস্তর বদলে গিয়েছিলেন। আর ডারউইনের প্রথম দিনেই তার বদলে যাওয়ার পূর্ণ রূপ দেখল ক্রিকেট বিশ্ব — ছয় উইকেট, টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার, আর অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়া মাত্র ১৯৮ রানে।

এই রূপান্তরের ইঙ্গিত মিলেছিল প্রস্তুতি ম্যাচেই, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে, যেখানে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্রেফ আরেকজন এশিয়ান পেসার হয়ে থাকতে আসেননি তিনি। সেই ইঙ্গিতটা ছিল ভূমিকামাত্র, ডারউইনের এই সকাল-দুপুর-বিকেল জুড়ে লেখা হলো তার পূর্ণাঙ্গ অধ্যায়।

জেক ওয়েদারাল্ডকে বারবার ভুগিয়ে ফেরানো দিয়ে শুরু, তারপর রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে অ্যাঙ্গেল বদলে ট্রাভিস হেডের প্রতিরোধ ভাঙা, প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে চাপ বাড়ানো. প্রতিটি উইকেটেই ছিল আলাদা পরিকল্পনা, আলাদা ফাঁদ। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস এর  শেষভাগে এসে যেন মাস্টারক্লাসের চূড়ান্ত অধ্যায় লিখলেন, অস্ট্রেলিয়ার ফিরতে না চাওয়া  ব্যাটসম্যানদের একে একে ফিরিয়ে।

স্টিভেন স্মিথ, যিনি একাই লড়ছিলেন ১০৯ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলে, তাকেও রেহাই দিলেন না হাসান — শর্ট বলে চার্জ করতে বাধ্য করে ক্যাচ তুললেন উইকেটকিপারের হাতে। তারপর নাথান লিঁওকে টপ-এজ করিয়ে মিডউইকেটে সহজ ক্যাচে ফিরিয়ে সমাপ্তি টানলেন ইনিংসের, নিজের নামের পাশে বসালেন ছয় নম্বর উইকেট।

ক্যারিয়ারের বয়স খুব বেশি নয় হাসান মাহমুদের, কিন্তু এই অল্প সময়েই তিনি নিজেকে বসিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটের সবচেয়ে ভরসার নামের জায়গায়। বড় ক্যারিয়ারের ভার নেই তার কাঁধে, কিন্তু বড় মুহূর্তে জ্বলে ওঠার প্রবণতা যেন তার সহজাত এক গুণ হয়ে উঠেছে ইতিমধ্যেই। এই বয়সেই, এই অভিজ্ঞতাতেই লাল বলে দেশের সেরা পেসার হয়ে উঠেছেন তিনি আর আজ ডারউইনে আরও একবার সেটা জোরালো হলো।

কমেন্ট্রি বক্সে কেরি ’কিফের মতো সাবেক তারকারা তুলনা টেনেছিলেন মোহাম্মদ শামির সঙ্গে — সিম পজিশন আর নিয়ন্ত্রণে সেই ছাপ স্পষ্ট ছিল সারাদিন। যে হাসান মাহমুদকে কয়েক মাস আগেও চেনা যেত কেবল গতির জন্য, নিয়ন্ত্রণের অভাবে যাকে প্রায়ই খেসারত দিতে হতো ম্যাচের পর ম্যাচ, সেই তিনিই আজ লিখলেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। কেন্ট তাকে শিখিয়েছিল ধৈর্যের ভাষা, আর অস্ট্রেলিয়ার এই বাউন্সি, রোদে পোড়া উইকেট হয়ে উঠল সেই শিক্ষার সবচেয়ে বড় পরীক্ষাক্ষেত্র।

ছয় উইকেট, অস্ট্রেলিয়া অলআউট ১৯৮ রানে — ডারউইনের প্রথম দিনেই হাসান মাহমুদ প্রমাণ করে দিলেন, রূপান্তরটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না, ছিল এক দীর্ঘ যাত্রার সুন্দর পরিণতি। ইংল্যান্ডের কাউন্টি মাঠে যে গল্পের শুরু, অস্ট্রেলিয়ার এই লালমাটির উইকেটে এসে সেটাই পূর্ণতা পেল। আর বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটে আজ যেন আরও একবার প্রমাণ হলো — ভরসার নামটা একটাই, হাসান মাহমুদ।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link