প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর আঙিনায় নাটকীয়তা যেন এক অলিখিত নিয়ম। ২০২৬-২৭ মৌসুমের লিগ ওয়ান – এর উদ্বোধনী ম্যাচেও মিলল তারই পুনরাবৃত্তি। পিএসজির মেঘাচ্ছন্ন ঘনঘটায় শেষ পর্যন্ত আশার আলো হয়ে জ্বললেন নবাগত স্প্যানিশ তারকা ফেরান তোরেস। তাঁর অবিস্মরণীয় জোড়া গোলে ২-২ ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লুইস এনরিকের দল।
রেনের মাঠে পিএসজির সূচনাটা ছিল বিষাদময়। স্বাগতিকদের একের পর এক আক্রমণের তোপে দিশেহারা হয়ে পড়ে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের মাত্র নয় মিনিটে পোলিশ মিডফিল্ডার সেবাস্তিয়ান সিমানস্কির চমৎকার লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যায় রেনে।
ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৩৮ মিনিটে ফরাসি ফরোয়ার্ড এস্তেবান লেপল ব্যবধান ২-০ করলে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি চলে যায় স্বাগতিকদের হাতে।

বিরতির পর পরিস্থিতি বদলাতে মাস্টারস্ট্রোক দেন পিএসজি বস লুইস এনরিকে। প্রথমার্ধে চরম ব্যর্থ উসমান দেম্বেলেকে উঠিয়ে ৪৬তম মিনিটে মাঠে নামান ফেরান তোরেসকে। তোরেস নামতেই ম্যাচের আবহ পাল্টে যায়। ২৬ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মাঠে নেমে কাজের কাজটি করেন নিখুঁতভাবে। দুটি শট লক্ষ্যবস্তুতে হানেন এবং দুটিতেই বল পাঠায় জালে।
অথচ মরসুমের শুরুতে তোরেসকে নিয়ে প্যারিসের সমর্থকদের মনে ছিল বিস্তর সংশয়। গনসালো রামোস এসি মিলানে পাড়ি জমানোর পর সমর্থকরা চেয়েছিলেন বোর্নমাউথের উদীয়মান তারকা ইলি জুনিয়র ক্রুপির মতো কাউকে। দেম্বেলে যখন বার্সেলোনা থেকে এসেছিলেন, তখনও ভক্তদের এমন অবিশ্বাস ছিল। কিন্তু কোচের আস্থা ছিল দৃঢ়। বার্সেলোনা থেকে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে তোরেসকে প্যারিসে আনার ব্যাপারে এনরিকে শুরু থেকেই ছিলেন অটল।
২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যাওয়া এই বীর এবার ফরাসি লিগে নিজের অভিষেকেই প্রমাণ করলেন কোচের জহুরি চোখ ভুল ছিল না। প্রায় হেরে যাওয়া একটি ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে এনে তিনি এনরিকের আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিলেন। পিএসজির জার্সিতে তোরেসের এই রূপকথার ভবিষ্যৎ হয়তো সময়ই বলবে, তবে রোয়াজন পার্কের এই স্মরণীয় রাতটি নিশ্চয়ই পারিসিয়ানদের নতুন এক স্বপ্নের পথ দেখাবে।












