মাহেন্দ্র সিং ধোনির মতো বিশাল ফ্যানবেজ নেই। ঋদ্ধিমান সাহার মতো হাহুতাশ তিনি করেন না। ঋষাভ পান্তের মতো তারকা ইমেজও নেই। কিন্তু ধ্রুব জুরেলের একটা জিনিস আছে, নিজের কাজটা করে যাওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা। নীরবে, নিভৃতে নিজের জাত চিনিয়ে যাচ্ছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে শতক হাঁকিয়ে যেন সেই বার্তাটাই আরও একবার দিয়ে গেলেন জুরেল।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে ভারতের স্কোর ছিল ৩০০ রান, পাঁচ উইকেট হারিয়ে। এরপরই ক্রিজে আসেন পান্ত ও জুরেল। একজন ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত উইকেটকিপারদের একজন, অন্যজন সেই জায়গাতেই ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় তৈরি করে চলেছেন। কিন্তু এদিন পান্তের সঙ্গে ব্যাটিং করলেও জুরেল নিজের সক্ষমতার প্রতিটা দৃশ্য দেখিয়ে গেছেন।
দুজন মিলে সপ্তম উইকেটে গড়েন ১১২ রানের দুর্দান্ত জুটি। পান্ত ৬৩ রানে ফিরলেও জুরেল থামেননি। প্রথমে তুলে নেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি। এরপর আরও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে থাকেন শতকের দিকে। দ্বিতীয় সেশনে বৃষ্টি নামার আগে ভারত ৪৭৫ রানে ৮ উইকেট হারালে জুরেল অপরাজিত ছিলেন ৯৫ রানে।

এখানেই আলাদা হয়ে ওঠে জুরেলের গল্প। কারণ, ভারতীয় ক্রিকেটে উইকেটকিপার-ব্যাটারের জায়গাটা কখনোই সহজ ছিল না। মহেন্দ্র সিং ধোনি সেই জায়গাকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যার পর প্রত্যেক উইকেটকিপারের সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে তুলনা চলে আসে। এরপর ঋদ্ধিমান সাহা আলোছায়ার মাঝে বন্দি হয়ে ছিলেন। আর পান্ত তো নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও অদ্ভুত সব শটে উইকেটকিপার-ব্যাটিংয়ের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন।
এই তিনজনের মতো আলোচনার কেন্দ্রে না থেকেও জুরেল নিজের পথটা তৈরি করছেন। ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর থেকেই তার ব্যাটিংয়ে একটা বিষয় চোখে পড়েছে, পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষমতা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রাজকোটে ৯০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২৫ রানের দুর্দান্ত শতকও এসেছে তার ব্যাট থেকে। অর্থাৎ সুযোগ পেলে বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য যে তার আছে, সেটি আগেই প্রমাণ করেছেন জুরেল।
আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ইনিংসটি যেন তার টেস্ট ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রথম টেস্টেও গলে দুই ইনিংসে ৫১ ও ৭ রান করেছিলেন। এর আগে শ্রীলঙ্কা এ দলের বিপক্ষে ১৫৫ রানের ইনিংসও খেলেছেন। ফলে শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে ব্যাটিং নিয়ে তার আত্মবিশ্বাস যে ক্রমেই বাড়ছে, সেটাও স্পষ্ট।

এই ইনিংসে জুরেলকে কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করতে দেখা যায়নি। স্পিনের বিপক্ষে ফুটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন, সুযোগ পেলে রান নিয়েছেন, আবার প্রয়োজন হলে বল ছেড়েছেন। ৮০-এর ঘরে পৌঁছানোর পরও ঝুঁকি কমিয়ে খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত শতক হাঁকিয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি একটু আলাদা অন্যদের থেকে।
৫০৩ রান করে ভারত তাদের ইনিংস ঘোষণা করে। এর মধ্যে ১১৫ রানের দুর্দান্ত এক নক নিজের নামের পাশে লিখে ফেলেন জুরেল। সাত নম্বরে নেমে এমন ইনিংস এক অর্থে অমূল্য। জুরেল নিজেকে মহামূল্যবান করে তুলছেন ভারতের জন্য।










