মৌসুম পাল্টায়, জাতীয় দলের জার্সি বদলে ওঠে ক্লাবের সাদা পোশাক, এমনকি টুর্নামেন্টও বদলে যায়। কিন্তু শীর্ষ গোলদাতা হওয়াটা যেন কিলিয়ান এমবাপ্পের সহজাত প্রবৃত্তি। ২০২৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট মাথায় নিয়ে ক্লাবে ফিরেছেন তিনি। আর ২০২৬-২৭ লা লিগা মৌসুমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিজেদের প্রথম হোম ম্যাচেই সোসিয়েদাদের বিপক্ষে করলেন হ্যাটট্রিক।
২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমেই ৩১টি গোল নিয়ে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২৫-২৬ মৌসুমেও টপ স্কোরারের টেবিলে প্রথম নামটা বদলাতে হয়নি। এবারের মৌসুমের প্রথম হোম ম্যাচেও নিজের সেই রাজত্ব বজায় রাখার বার্তা স্পষ্ট করলেন তিনি।
ম্যাচে রিয়ালের দাপট শুরু থেকেই ছিল। সেই সাথে বল পায়ে উজ্জ্বল ছিলেন এমবাপ্পেও। ২১ মিনিটে অনবদ্য এক গোলও তৈরি করেছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ভুলে স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থেকে যায়।

৪০ মিনিটের মাথায় কাঙ্ক্ষিত প্রথম গোলটি আসে এমবাপ্পের পা থেকেই। ফেদেরিকো ভালভার্দের চমৎকার পাস ধরে সেন্টার অব দ্য বক্স থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
রক্ষণভাগের ভুলে রিয়াল সোসিয়েদাদ আবারও ম্যাচে ফিরলেও বার্নাব্যুর নিরবতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি কিলিয়ান। ম্যাচের ৬০ মিনিটে জুড বেলিংহামের ডিফেন্স চেরা পাস রিসিভ করে ঠান্ডা মাথার শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
তবে সেখানেই থেমে থাকেননি এই ফরাসি মহাতারকা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে বক্সের বাম প্রান্ত থেকে ড্রিবলিং করে চোখধাঁধানো এক বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে।

শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের এই অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিকেই সোসিয়েদাদকে হারিয়ে পুরো তিন পয়েন্ট তুলে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। টুর্নামেন্ট বা জার্সি যাই হোক না কেন, গোলপোস্টের সামনে এমবাপ্পের গোল করার ক্ষুধা যে অপরিবর্তনীয় – বার্নাব্যুর গ্যালারি যেন আরও একবার তারই সাক্ষী হলো।











