লর্ডসে আব্বাসের ইতিহাস

লর্ডসের সেই বিখ্যাত বেলকনি, যেখানে ইতিহাস প্রতিটি ইটে খোদাই হয়ে আছে—সেই মাঠেই রোববার অনার্স বোর্ডে নিজের নামটা নতুন করে লিখলেন মোহাম্মদ আব্বাস

লর্ডসের সেই বিখ্যাত ব্যালকনি, যেখানে ইতিহাস প্রতিটি ইটে খোদাই হয়ে আছে—সেই মাঠেই রোববার অনার্স বোর্ডে নিজের নামটা নতুন করে লিখলেন মোহাম্মদ আব্বাস। ইংল্যান্ডের ইনিংসের ৫২তম ওভারের প্রথম বলেই ওলি রবিনসনকে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসবন্দি করে যখন আব্বাস দুই হাত ছড়িয়ে উদযাপনে মাতলেন, তখন যেন ঘড়ির কাঁটা কয়েক দশক পিছিয়ে গেল। কারণ এই লর্ডসেই একসময় ঝড় তুলেছিলেন ওয়াকার ইউনুস, মুশতাক আহমেদ, ইয়াসির শাহরা।

আব্বাস এখন পাকিস্তানের সপ্তম বোলার, যিনি লর্ডসের মাটিতে টেস্টে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন। খান মোহাম্মদ থেকে শুরু করে মুদাসসার নজর, ওয়াকার ইউনুস, মুশতাক আহমেদ, মোহাম্মদ আমির, ইয়াসির শাহ হয়ে সেই তালিকায় যুক্ত হলো আব্বাসের নামও। তবে শুধু তালিকায় নাম লেখানো নয়, আব্বাস ভেঙে দিয়েছেন এক কিংবদন্তির রেকর্ডও। ১৯৯৬ সালে ওয়াকার ইউনুস এই মাঠে ৪৯ ওভার বল করে নিয়েছিলেন ৮ উইকেট, দিয়েছিলেন ১৫৪ রান।

তিন দশক পর আব্বাস মাত্র ৪০.১ ওভারে ১২৭ রানে তুলে নিলেন ৯ উইকেট—এক টেস্টে পাকিস্তানি পেসারদের মধ্যে লর্ডসে সর্বোচ্চ। রবিনসনের উইকেটটি দিয়ে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন ওয়াকারের আরেকটি কীর্তিও—লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক ১৭ উইকেট, যা ওয়াকার নিয়েছিলেন তিন টেস্টে, আর আব্বাস মাত্র দুই টেস্টেই।

মাঠের প্রতিটি বলে যেন লেখা হচ্ছিল এক নতুন অধ্যায়, যেখানে সিম আর সুইংয়ের যাদুতে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ বারবার হোঁচট খেয়েছে। ২০৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের ইনিংসে আব্বাসের ফিগার ছিল ৫৭ রানে ৫ উইকেট—তার বোলিং যেন এক ধীর, ধারালো ছুরির মতো, যা একটু একটু করে কেটে ফেলেছে প্রতিরোধের প্রতিটি স্তর।

তবে ব্যক্তিগত এই কীর্তির উজ্জ্বলতা যতই থাকুক, দলগত সমীকরণ বলছে ভিন্ন কথা। জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ৩৮৯ রান, যা এই মাঠে প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। কোনো মিরাকল না ঘটলে এই টেস্টে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। প্রশ্ন থেকে যায়—আব্বাসের এই ঐতিহাসিক বোলিং কি শেষ পর্যন্ত শুধুই এক মধুর স্মৃতি হয়ে থাকবে, নাকি ব্যাটসম্যানরা লিখবেন আরেকটি রূপকথা?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link