শান্তর অপেক্ষায় ইতিহাস?

মিরপুরের ড্রেসিংরুমে যেদিন টেস্ট নেতৃত্বটা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে, তখন অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিলেন। আজ পরিসংখ্যানই সেই সংশয়ের জবাব দিচ্ছে সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠে। মুশফিকুর রহিমকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড এখন শান্তর

মিরপুরের ড্রেসিংরুমে যেদিন টেস্ট নেতৃত্বটা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে, তখন অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিলেন। আজ পরিসংখ্যানই সেই সংশয়ের জবাব দিচ্ছে সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠে। মুশফিকুর রহিমকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড এখন শান্তর, আর অধিনায়কত্বের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে তাঁর নিজের ব্যাটটাও।

নেতৃত্ব পাওয়ার আগে ৪৪ ইনিংসে ৪ সেঞ্চুরি আর ২৯.৮৩ গড় নিয়ে যে ব্যাটসম্যান পরিচিত ছিলেন, অধিনায়ক হয়ে ৩০ ইনিংসেই তিনি তুলে নিয়েছেন ৫টি সেঞ্চুরি, গড় উঠে গেছে ৩৮.৪৮-এ—বাংলাদেশের কোনো টেস্ট অধিনায়কের এত সেঞ্চুরি নেই।

চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে অধিনায়ক হিসেবে শান্তর পরিসংখ্যানও চোখে পড়ার মতো—১১ ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরিসহ ৬৪৭ রান, গড় ৬৪.৭০। নিয়মিত টেস্ট অধিনায়কদের মধ্যে এই গড়ে তিনি আছেন ভারতের শুভমান গিলের ঠিক পেছনেই, দ্বিতীয় স্থানে।

কিন্তু শান্তর গল্পটা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের নয়। পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়, আর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ডারউইনে সেই ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়—যাকে নিজেই আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে—এসব জয়ের পেছনে লুকিয়ে আছে একটা মানসিকতার বদল, যা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।

পাঁচ বছর আগেও যেখানে পেসাররা টেস্ট খেলতে চাইতেন না, আজ পুরো দলটাই বিশ্বমানের হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবু ম্যাকাইয়ের বিপর্যয়—এক ইনিংসে ৬৪, আরেক ইনিংসে ৯৫ রানে গুটিয়ে যাওয়া—শান্তকে থামতে দেয়নি অজুহাতের আড়ালে।

‘ব্যাটিং বিপর্যয়ের কোনো অজুহাত নেই,’ নিজেই বলেছেন তিনি, স্বীকার করেছেন টেকনিক্যাল জায়গায় উন্নতির প্রয়োজনীয়তা। এই দায় নেওয়ার মানসিকতাই বলে দেয়, তাঁর লক্ষ্য শুধু জেতা নয়—একটা ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইনআপকে দাঁড় করানো, দলকে ধারাবাহিক করে তোলা।

আর সবচেয়ে বড় কথাটা তিনি বলেছেন অস্ট্রেলিয়া সফরের আগেই—‘২৩ বছর আগের বাংলাদেশ আর নেই।’ এই একটা বাক্যেই ধরা আছে শান্তর আসল লক্ষ্য। তিনি চান, বাংলাদেশকে নিয়ে আর কোনো বড় দল যেন সহজ প্রতিপক্ষ ভেবে মাঠে না নামে, কেউ যেন টেস্ট খেলাটাকে নিয়ে অজুহাত না দেখাতে পারে।

ইতিহাসের পাতায় বারবার লেখা হওয়া বাংলাদেশের টেস্ট দুর্বলতার আখ্যানটা বদলে দিতে চান তিনি, রেখে যেতে চান এমন একটা মান, যা তাঁর পরের প্রজন্মকেও পথ দেখাবে। প্রশ্ন একটাই—রেকর্ড আর সাহসের এই মিশেলে শান্ত কি সত্যিই লিখে ফেলতে পারবেন বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের নতুন সংজ্ঞা?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link