এমন ব্যাটিংয়ের সংজ্ঞা খোদ পাকিস্তানও জানে না

একদিনের মধ্যে কি করে বদলে যায় সবকিছু? একেবারে থ্রিসিক্সটি ডিগ্রি পালটে যায় কি করে? এই উত্তর সম্ভবত পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কাছেও নেই।

পাকিস্তান দলটাকে আপনি ঠিক কোন পাল্লায় ফেলবেন- বেশ শক্ত দল, নাকি একেবারেই নড়বড়ে? এই দলটা ‘আনপ্রেডিক্টেবল’, সেই একবারে ক্রিকেট দুনিয়ায় তাদের পদযাত্রার শুরু থেকে। একদিন আগে যে দলটা ২০০ ছাড়ানো রান তাড়া করে জিতেছে, চার ওভার বাকি থাকতে; ঠিক একদিন পর সেই দলটাই ব্যাটিং বিপর্যয়ের চোরাবালিতে তলিয়ে গেছে।

একদিনের মধ্যে কি করে বদলে যায় সবকিছু? একেবারে থ্রিসিক্সটি ডিগ্রি পালটে যায় কি করে? এই উত্তর সম্ভবত পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কাছেও নেই। সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে হলে, চতুর্থ ম্যাচটা জিততে হতো পাকিস্তানের। সিরিজে তখন ২-২ সমতা হতে পারত।

কিন্তু কিসের কি, চিরকালের নিয়ম মেনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার পরিণত হয়েছে তাসের ঘরে। হুড়মুড় করে সবাই ফিরে গেছে প্যাভিলিয়নে। মাত্র ১০৫ রানে অলআউট হয়ে গেছে পাকিস্তান দল। মাত্র নয় রানেই নেই পাকিস্তানের তিন উইকেট। এরপর স্কোরবোর্ডে যখন ৫৬ রান যুক্ত হয়েছে- ততক্ষণে উইকেট হারিয়েছে আরও পাঁচটি।

শেষের দিকে আবদুল সামাদের ৪৪ রান স্রেফ ব্যবধানই কমিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই ঘটেনি। দিন বদলের গল্প বলছে পাকিস্তান। কিন্তু কোন কিছুই যেন বদলায়নি এক ফোটায়। সেই আগের ধারাতেই রয়ে গেছে দলের ব্যাটিং প্রদর্শন।

এমন নিদারুণ ব্যাটিং পারফরমেন্স দিয়ে আর যাই হোক সিরিজ জেতা যায় না, শিরোপা তো বহুদূরের স্বপ্ন। ধারাবাহিকতার বিন্দুমাত্র বালাই নেই। আগ্রাসী হতে গেলে ধারাবাহিকতা উধাও, আবার ধারাবাহিকতার চক্করে কচ্ছপ গতিতে ব্যাট চলে পাক ব্যাটারদের।

দমকা হাওয়া হয়ে দু’একটি ম্যাচ জিতেই যেন সন্তুষ্ট পাকিস্তান। একদিন ব্যাটের উচ্ছ্বাসের তীব্র ঝড়ে প্রতিপক্ষ হবে বালুকণা। আরেকদিন মরুভূমির বুকে এক মুঠো বালুতে রুপান্তরিত হয়ে যাবে খোদ পাকিস্তান। এ যেন এক অনন্তকাল ধরে চলা চক্র। এর নেই কোন শেষ।

Share via
Copy link