যা কেউ করেনি, যা কেউ পারেনি, তাই করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাসটা নিজের বিশ্বাসের কলম দিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তরা। এশিয়ার বাকি দেশগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, কিভাবে অজি দম্ভ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।
একটু পরিসংখ্যানের খেরোখাতা সামনে আনা যাক। শ্রীলঙ্কার মতো দল কখনও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতেনি। সনাথ জয়াসুরিয়া, কুমার সাঙ্গাকারারা অজি দুর্গ বারবার আঘাত করে নিজেরাই ফিরেছে আহত হয়ে।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই, তবে শ্রীলঙ্কার মতো না। শেষবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তারা টেস্ট জিতেছিল ১৯৯৫ সালে। অর্থাৎ ৩১ বছর ধরে তারা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়হীন। এমনকি টানা ১৭ টেস্ট হারের গ্লানি গায়ে লেপ্টে আছে। এমনকি নিউজিল্যান্ডের মতো পরাক্রমশালী দলও সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিতেছিল ২০১১ সালে। সেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই, তাদের সেরা ১১ জনের বিপক্ষেই বাংলাদেশের এমন জয় সত্যিই অবিশ্বাস্য!

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই দেখিয়েছে, তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি। লড়াই করতে এসেছে, জিততে এসেছে। আর শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই রূপ নিয়েছে ইতিহাসে। নাহিদ রানাকে না পাওয়ার আক্ষেপ মাটি চাপা দিয়েছে তাসকিন আহমেদ-হাসান মাহমুদরা।
অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে তাদের ঘরের মাঠে এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের বিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। একসময় বাংলাদেশের পেসাররা পর্যাপ্ত টেস্ট ম্যাচ না পাওয়ায় সাদা পোশাকের ক্রিকেট খেলতেই চাইতেন না। আর আজ সেই পেসাররাই বিশ্বসেরা ব্যাটারদের বিপক্ষে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছেন, এও এক অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব গল্প।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে হয়তো এর চেয়ে বড় জয়ও একদিন আসবে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর অপেক্ষার পর এই জয়, এর আবেগ, এর মাহাত্ম্য, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সবকিছুই আলাদা। বাংলাদেশ ক্রিকেট যে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।











