চে’র বিশ্বাস

কোথাও যেন একটা পড়েছিলাম, ইন্ডিয়ান আর্মির ঘাতক বাহিনীকে তাদের প্রস্তুতিপর্বের শেষ ধাপে ওল্ড মংকের বোতল ভেঙে কটমট করে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে হয় - এমনভাবে খেয়ে ফেলতে হয় যাতে কাচের গুঁড়ো নিমেষে মিশে যেতে পারে রক্তের সাথে। ‘চে’ দেখেছে এসব।‘চে’ শুনেছে এসব। রাজকোটে যখন বিপিন পুজারা থ্রো ডাউন করে তাকে প্র‍্যাকটিস করাতো, তখনও ঠিক এভাবেই ‘চে’ পেতে দিত তাঁর বুকখানি। ‘চে’-য়েরা বুক পাততে ভালোবাসে। ‘চে’-য়েরা গুলি খেতে ভালোবাসে। ‘চে’-য়েরা কালশিটে দাগ নিতে ভালোবাসে। বলিভিয়ার লা হিগুয়েরাতে। ব্রিসবেনের গ্যাবায়।

‘চে’র বিশ্বাস ছিল পাঁচ ঘন্টা চোদ্দ মিনিট ধরে চাবুকের ঘা সহ্য করতে পারবে। ‘চে’র বিশ্বাস ছিল ২১১ খানা পাকানো বোমা একাই গিলে নিতে পারবে। ‘চে’র বিশ্বাস ছিল ১৬ খানা এবড়োখেবড়ো পাথরের ঘায়ে রক্তাক্ত হয়েও মুহুর্তের হাসি হেসে একটা থাম্বস আপ দেখিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারবে – ‘প্যাট, তোমার বৃথা চেষ্টা। এ বুকে এতদিনে জমা হয়ে গেছে তেরো হাজার পাঁচশো বাহাত্তরটা বলের ঘা।’

এই ‘চে’ একটা বিশ্বাসের নাম, যে বিশ্বাসের পাঠ নিয়ে হিংস্র পৃথিবীতে সহিষ্ণু হয়ে চলেছে আমার আপনার চারিপাশের কেউ না কেউ, প্রতিদিন।

আসলে ক্রিকেট তো জীবন আহরণের পাঠ। বাগদি বুড়িরা যেভাবে পুকুরপাড়ে শাক তুলে তুলে ঝুড়ি ভরায়, আমি আপনি ছোটোবেলায় যেভাবে গেলাসে নুড়ি ভরাতাম,ঠিক সেভাবেই ক্রিকেট আমাদেরকে ভরায় জীবনের পাঠের ভগ্নাংশ দিয়ে – এক ফালি – দুই ফালি – তিন ফালি।

বাইশ গজের পিচ আর আশি গজের বাউন্ডারি ছাড়িয়ে ‘চে’র বিশ্বাস তো এভাবেই পাঠ দেয় আমাদের, এভাবেই তো সয়ে নিতে শেখায় বলের ঘুষিগুলোকে,এভাবেই বয়ে নিতে শেখায় ঘাঁ-য়ের গর্বিত কালশিটেগুলোকে। বহুকাল আগে সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়  বলেছিলেন – ‘বিদেশে একটা ইডিয়ম ব্যবহৃত হয় বহুলভাবে, সেটা হলো – ইট ইজ নট ক্রিকেট , অর্থাৎ – ইট ইজ নট ফেয়ার। যা কিছু সত্য, সেটাই ক্রিকেট। যা কিছু সৎ, সেটাই ক্রিকেট। যা কিছু শুদ্ধ, সেটাই ক্রিকেট। যা কিছু জীবন, সেটাই ক্রিকেট। বহুকাল আগে মহিন্দর অমরনাথ শিখিয়েছিলেন। ‘চে’র বিশ্বাস শেখালো আরেক বার – এক ফালি – দুই ফালি – তিনফালি।

‘চে’ এটাও বিশ্বাস করে যে বলের ঘায়ে হেলমেটের একটা অংশ খুবলে পড়লেও সে পিছোবে না – এগিয়ে যাবে, এক পা – দুই পা – নাথান লিওঁও ঠিক পরের ওভারটিতেই – এগিয়ে  গিয়ে রুখে দেবে তাঁর বলের ঘূর্ণি – ফাটলে পড়বার আগেই। ‘চে’র বিশ্বাসে ব্যাকফুটটা যে চিরকালই দুর্বল। ‘চে’ কোথাও যেন একটা জীবন হয়ে গিয়েছে এখানেই।

কোথাও যেন একটা পড়েছিলাম, ইন্ডিয়ান আর্মির ঘাতক বাহিনীকে তাদের প্রস্তুতিপর্বের শেষ ধাপে ওল্ড মংকের বোতল ভেঙে কটমট করে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে হয় – এমনভাবে খেয়ে ফেলতে হয় যাতে কাচের গুঁড়ো নিমেষে মিশে যেতে পারে রক্তের সাথে। ‘চে’ দেখেছে এসব।

‘চে’ শুনেছে এসব। রাজকোটে যখন বিপিন পুজারা থ্রো ডাউন করে তাকে প্র‍্যাকটিস করাতো, তখনও ঠিক এভাবেই ‘চে’ পেতে দিত তাঁর বুকখানি। ‘চে’-য়েরা বুক পাততে ভালোবাসে। ‘চে’-য়েরা গুলি খেতে ভালোবাসে। ‘চে’-য়েরা কালশিটে দাগ নিতে ভালোবাসে। বলিভিয়ার লা হিগুয়েরাতে। ব্রিসবেনের গ্যাবায়।

ব্যাট নয়, ‘চে’-এর বুকে লেগেই ভোঁতা হয়ে যায় প্যাট কামিন্সের নতুন কোকাবুরার চিকচিকানি, এতোটাই জোর ‘চে’-এর বুকের। গৌতম বাবু লিখলেন – ‘চে’ নিয়েছিলো অমরনাথের ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্ট্র‍্যাটেজি – যেটা লাইনে পাব, পুল মারব, যেটা পাবো না, গায়ে নেব। এভাবেই বুক পেতে দিয়েছে ‘চে’-য়েরা।

কখনও বলিভিয়ার লা হিগুয়েরায় নয় – নয়টা গুলি শুষে নেন ‘চে’ গ্যাভেরা, কখনও গ্যাভায় বাষট্টিটা শর্ট পিচড্ ডেলিভারি শোষেণ ‘চে’তেশ্বর। এইতো ঠিক আগের অস্ট্রেলিয়া সফর। ‘চে’ শুষেছিল বারোশো আটান্নটা বল। অবয়বে বিশ্বাসী ভারতীয়রা কেনোই বা পূজবেনা তাঁকে, গত দশ বছর ধরে যে বয়ে বেড়াচ্ছে তেরো হাজার পাঁচশো বাহাত্তরটা বলের কালশিটে দাগ!

আস্ফালনে অবিশ্বাসী ‘চে’-য়েরা আগুন বয়ে বেড়ান বুকে করে, যে আগুনের পরশমণির ছোঁয়া লেগে পুণ্যলাভ করেছে তেরো হাজার পাঁচশো বাহাত্তরটা বলের প্রাণ।

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...