না খেলেই মাঠ ছাড়লেন ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা!

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে খেলা শুরুর কথা ছিল আজ শুক্রবার। ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা ভেন্যুতে সময়মতো পৌঁছালেও টসের সময়ে মাঠে যাননি।

টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গেল ক্রিকেট ম্যাচ। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে(ডিপিএল) বকেয়া পাওনার দাবিতে ম্যাচ বয়কট করলেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে মাঠে না নেমে তাঁরা জন্ম দিলেন এক লজ্জাজনক ইতিহাসের, যেখানে ২২ গজের লড়াই থমকে গেল অধিকার আদায়ের দাবিতে।

শুক্রবার বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে খেলা শুরুর কথা ছিল। ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা ভেন্যুতে সময়মতো পৌঁছালেও টসের সময়ে মাঠে যাননি। ম্যাচ রেফারি অতিরিক্ত দশ মিনিট সময় দিলেও আর মাঠে নামেননি ব্রাদার্সের খেলোয়াড়রা। তাই তো বাধ্য হয়ে প্রতিপক্ষ অগ্রণী ব্যাংককে ওয়াকওভারে জয়ী ঘোষণা করা হয়। 

ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের ইতিহাসে অবশ্য এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে গত দেড় যুগ ধরে নানা সময়ে ক্লাবটির অর্থ পরিশোধ না করার বিষয় সামনে এসেছে। এই কারণে এর আগে প্রথম বিভাগেও নেমে যেতে হয়েছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আইন অনুসারে এটাই নিয়ম। 

দলের সিনিয়র ক্রিকেটার সোহাগ গাজী দ্য ডেইলি সানকে জানান, ক্লাব কর্মকর্তাদের সাথে বারবার আলোচনা করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ পেমেন্ট সংক্রান্ত একটি সমস্যা। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।”

চুক্তি অনুযায়ী টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মাত্র ২০ শতাংশ টাকা পেয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। বাকি ৩০ শতাংশ টাকা পাওয়ার কথা ছিল ঈদুল আজহার আগে। কিন্তু ঈদ পেরিয়ে গেলেও ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ ক্রিকেটারদের অ্যাকাউন্টে একটি টাকাও দেয়নি। আর এতেই ক্ষোভ বাড়তে বাড়তে ম্যাচ না খেলার দিকে নিয়ে গেছে খেলোয়াড়দের।

সংসার চালানো, বাসার ভাড়া দেওয়া কিংবা নিত্যদিনের বাজার করার মতো মৌলিক চাহিদার সংকটে পড়েছেন ক্রিকেটাররা। সোহাগ গাজী বলেন, “আমাদেরও পরিবার আছে। অনেক খেলোয়াড় বাসার ভাড়া দিতে পারছেন না, বাজার করতে পারছেন না। চুক্তির টাকা পেলে অন্তত তাঁরা পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারতেন।”

ঈদের আগে পাওনার আশায় ক্রিকেটাররা ক্লাব কর্মকর্তাদের বাসার সামনে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের হাতে মাত্র ৬ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মতো সামান্য কিছু অর্থ ধরিয়ে দেওয়া হয়। সোহাগ গাজীর ভাষায়, “এই সামান্য টাকা দিয়ে তো আর ২৫-৩০টি পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করা যায় না।”

ক্রিকেটারদের অধিকার আদায়ের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর (কোয়াব) কাছে সাহায্য চেয়েও কোনো সমাধান মেলেনি। সোহাগ গাজী বলেন, ” ক্লাব থেকে আমাদের বলা হয়েছিল, খেললে খেলো, না খেললে নাই। দল নিচে নেমে গেলেও সমস্যা নেই।”

ক্রিকেট খেলা অনেকের কাছেই নিজেদের মূল পেশা। ক্রিকেটারদের পরিবার চলে এই টাকাতেই। সেখানে নিজেদের প্রাপ্য টাকা না পাওয়া মানে আর্থিকভাবে নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়া। ব্রাদার্সের খেলোয়াড়দের এমন ঘটনার শিকার হওয়ার ভেতর দিয়ে ক্লাবের দ্বারা ক্রিকেটারদের অবহেলার চিত্রই প্রকাশ পায়। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link