গতির দেশে নাহিদের গতির রাজত্ব

গলি থেকে গ্যালারি, কমেন্ট্রি বক্স থেকে টকশো। সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ২৩ বছরের এক দীর্ঘদেহী তরুণ। তিনি নাহিদ রানা।

লাহোরে মরুর বুক থেকে রাওয়ালপিন্ডির সবুজ ঘাস। পাক মুলুকে এখন নাহিদ রানাকে ঘিরে গুঞ্জন। গলি থেকে গ্যালারি, কমেন্ট্রি বক্স থেকে টকশো। সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ২৩ বছরের এক দীর্ঘদেহী তরুণ। তিনি নাহিদ রানা। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উঠে আসা এই গতিদানব এখন বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন ক্রেজে পরিণত হয়েছেন।

মূল মঞ্চে নামার আগেই নাহিদ তার আগমনী বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন। দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইন-আপকে গুঁড়িয়ে দিয়ে জানান দিয়েছিলেন – গগনচুম্বী গতিই তার প্রধান অস্ত্র। ফলে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) মঞ্চে তাকে দেখার জন্য দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা ছিল বাঁধভাঙা। সেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেট বিশ্বেও। ধারাভাষ্যে থাকা অনেকেই রীতিমত নাহিদ রানার ‘ফ্যান বয়’ বনে গেছেন।

যদিও গেল ৮ এপ্রিল হায়দ্রাবাদ কিংসম্যানের বিপক্ষে পেশোয়ার জালমির জার্সি গায়ে জড়িয়েও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি নাহিদ। কিন্তু তার উপর আস্থা ছিল পেশোয়ার ম্যানেজমেন্টের। পরের ম্যাচেই সেই আস্থার প্রতিদান আঠেরো আনাই দিলেন নাহিদ।

করাচি কিংসের বিপক্ষে নির্ধারিত চার ওভারে মাত্র সাত রান দিয়ে তিন উইকেটের এক অতিমানবীয় স্পেল করেন নাহিদ। সেই থেকেই পাকিস্তান জুড়ে শুরু হয় নাহিদ বন্দনা। পরের দুই ম্যাচে ছয়ের নিচে ইকোনমিতে বল করে দুইটি করে উইকেট নেন নাহিদ।

তার এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘গতি আসলে এমনই হওয়া উচিত। সে প্রতিপক্ষকে রীতিমতো ভুগিয়েছে। ঘন্টায় ১৪৫-১৫০ কিলোমিয়ার গতিতে ধেয়ে আসার ভঙ্গিটা আমার দারুণ লেগেছে। একদম সহজ বোলিং অ্যাকশন, মোটেও জটিল নয়। এই ছেলের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।’

পিএসএলের মাঝপথেই নিউজিল্যান্ড সিরিজের ডাক আসায় দেশে ফিরতে হয় নাহিদকে। তবে তার অনুপস্থিতি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিল পেশোয়ার। সমর্থক থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক। সবার একটাই আর্জি ছিল, যেন ফাইনালের জন্য নাহিদকে পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত তামিম ইকবালের হস্তক্ষেপে ফাইনালের মঞ্চে ফেরেন এই ফাস্ট বোলার।

​ফাইনালেও নাহিদ ছিলেন অনবদ্য। চার ওভারে মাত্র ২২ রান খরচায় দুই উইকেট তুলে নিয়ে পেশোয়ার জালমিকে শিরোপা জেতাতে অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করেন। নাহিদের এই বিশেষত্ব নিয়ে ম্যাচ বিশ্লেষণে শোয়েব মালিক থেকে শুরু করে কমেন্ট্রি বক্সে রমিজ রাজা সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

ক্রিকেটমহলে পাকিস্তান মানেই বিশ্বমানের গতির আতুঁড়ঘর। কিন্তু আজ সেই পাকিস্তানের গ্যালারি থেকে রাজপথ – সবই বুঁদ হয়ে আছে লাল-সবুজের এই পেসারকে ঘিরে। পেশোয়ারের জয় ছাপিয়ে যেন এটি এখন গোটা পাকিস্তানের মুগ্ধতার গল্প।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link