পরিকল্পনা আর নিখুঁত বিশ্লেষণের ফল পেয়েছে মিশর!

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে পেনাল্টি শুটআউটে। মাঠজুড়ে তখন স্নায়ুচাপ, গ্যালারিতে উৎকণ্ঠা। কিন্তু সেই মুহূর্তে মিশরের ফুটবলারদের চোখ ছিল মোবাইল স্ক্রিনে।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে পেনাল্টি শুটআউটে। মাঠজুড়ে তখন স্নায়ুচাপ, গ্যালারিতে উৎকণ্ঠা। কিন্তু সেই মুহূর্তে মিশরের ফুটবলারদের চোখ ছিল মোবাইল স্ক্রিনে। সেখানে চলছিল রিয়াল মাদ্রিদ বনাম লেভান্তের পুরোনো একটি ম্যাচের ভিডিও। উদ্দেশ্য একটাই, অস্ট্রেলিয়ার বদলি গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ানের অভ্যাস, শরীরের ভাষা আর পেনাল্টির সময় তাঁর নড়াচড়া শেষবারের মতো খুঁটিয়ে দেখা। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই যেন লিখে দিল ইতিহাস।

সাধারণত পেনাল্টি শুটআউটের আগে দুই দলের খেলোয়াড়রা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে পেনাল্টি নেওয়ার ক্রম ঠিক করেন এবং প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের অভ্যাস নিয়ে শেষ মুহূর্তের আলোচনা করেন। মিশরের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি, তবে তাদের সঙ্গে ছিলেন কোচিং স্টাফের একজন সদস্য,  খেলোয়াড়দেরদ রিয়াল মাদ্রিদ-লেভান্তে ম্যাচের ভিডিও দেখাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য, ১১৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ানের নড়াচড়া ও পেনাল্টির সময়কার আচরণ শেষবারের মতো পর্যবেক্ষণ করা।

ওই ম্যাচটি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলেছিলেন ম্যাথিউ রায়ান। সেই ম্যাচেই পেনাল্টি থেকে রিয়ালের হয়ে গোল করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। টেলিভিশন সম্প্রচারে ঠিক যে মুহূর্তে মিশরের খেলোয়াড়দের ভিডিও দেখতে দেখা যায়, তখন স্ক্রিনে এমবাপ্পেকে জুড বেলিংহামের সঙ্গে সেই গোল উদ্‌যাপন করতে দেখা যাচ্ছিল। ঘটনাটি বেশ অদ্ভুত মনে হলেও  কয়েক মুহূর্তের সেই ভিডিও বিশ্লেষণই হয়ে ওঠে বিশাল অস্ত্র, আফ্রিকার দলটির জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। চার শটের চারটিতেই রায়ানকে পরাস্ত করে মিশরের খেলোয়াড়রা।

পুরো ম্যাচজুড়েই অবশ্য বোঝা গেছে, প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল মিশর। সেটার প্রথম বড় প্রমাণ আসে তাদের গোলে। একটি ফ্রি-কিক থেকে সবাই যখন সরাসরি শটের অপেক্ষায়, তখন মোহাম্মদ সালাহ ছোট একটি পাস দেন ইমান আশুরকে। আশুরের প্রথম শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে এলেও অস্ট্রেলিয়া বলটি পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেনি।

দ্বিতীয় সুযোগে আবারও বল ভেসে আসে বক্সে, আর পেছনের পোস্টে দারুণভাবে জায়গা করে নেওয়া আশুর নিখুঁত হেডে বল জড়িয়ে দেন জালে। পুরো মুভমেন্টটিই ছিল অনুশীলন করা একটি পরিকল্পিত সেট-পিসের প্রতিফলন।

সফলতা কখনোই কাকতালীয় নয়। এর পেছনে থাকে অগণিত ঘণ্টার প্রস্তুতি, তথ্য বিশ্লেষণ আর সূক্ষ্ম পরিকল্পনা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিশরের এই ঐতিহাসিক জয় তাই শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়, এটি আধুনিক ফুটবলে ডেটা, কৌশল এবং নিখুঁত প্রস্তুতির নিদর্শনও বটে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link