ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সাম্প্রতিক মহাপরিকল্পনা যেন ক্রিকেট ছাপিয়ে এক করপোরেট ডিল। ২০২৭ থেকে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী যে ছক ইংল্যান্ড কষছে, তাতে বাংলাদেশের মতো দলগুলোর জন্য প্রাপ্তির চেয়ে শঙ্কার মেঘই বেশি ঘনীভূত হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের নতুন এই এফটিপি বিশ্লেষণ করলে দেখা মেলে এক চরম বৈষম্যের। পাকিস্তান কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলো যখন ইংল্যান্ড সফরে যাবে, তখন আতিথেয়তার ডালি সাজিয়ে তাদের জন্য রাখা হচ্ছে পাঁচ ম্যাচের দীর্ঘ রাজকীয় সিরিজ।
অথচ একই ইংল্যান্ড যখন বাংলাদেশ কিংবা শ্রীলঙ্কার মাটিতে পা রাখবে, তখন দীর্ঘ লড়াইয়ের বদলে তারা সারতে চায় মাত্র একটি টেস্ট ম্যাচ দিয়েই।

ইংল্যান্ডের যুক্তি – বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কায় টেস্ট খেলা এখন আর বাণিজ্যিকভাবে তেমন লাভজনক নয়। ফলে আভিজাত্যের টেস্ট কমিয়ে তারা রঙিন বলের ফরম্যাটে বেশি জোর দিতে চায়, যা কেবলই মুনাফার অংক মেলানোর চেষ্টা।
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখন থেকে ১২টি দল অংশ নেবে। যার মধ্যে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানও থাকছে। নতুন নিয়মে এক ম্যাচের সিরিজকেও ডব্লিউটিসি পয়েন্টের আওতায় আনা হচ্ছে।
ইসিবি এটাকে ছোট দলগুলোর জন্য বড় সুযোগ বলে প্রচার করছে। কিন্তু নেপথ্যের সত্যটা হলো ইসিবি টেস্টে আর র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর সাথে দীর্ঘ সময় নষ্ট করতে চাইছে না।

ইসিবির পরিকল্পনা এখন একদম ২০৩৬ সাল পর্যন্ত। আগামী বছর তাদের বড় অংকের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির টেন্ডার হবে। আর সেই বাজারে চড়া দাম পেতেই তারা বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোকে ব্র্যাকেট করে দিয়ে কেবল মুনাফা দেবে এমন সিরিজগুলোকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।











