পাক্কা দুই বছরের নির্বাসনে চলে গিয়েছিলেন ঈশান কিষাণ। কিন্তু অবশেষে তার কপাল খুলেছে। পারফরমেন্সের প্রবল ধাক্কায় তিনি খুলেছেন জাতীয় দলের দুয়ার। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন বা-হাতি এই ব্যাটার। স্রেফ ঘরোয়া ক্রিকেটের দুর্ধর্ষ পারফরমেন্সের জোরে।
ভারতের জার্সি গায়ে সর্বশেষ ম্যাচ ঈশান কিষাণ খেলেছিলেন ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর। এরপর ঠিক কি কারণে তিনি বিতাড়িত হয়েছিলেন সে ধোঁয়াশা কখনো কাটেনি। কিন্তু ঈশানের মস্তিষ্কে তার লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার। শত ঝড়-ঝঞ্ঝা পেরিয়ে তিনি আবার গায়ে চাপাতে চলেছেন ওই নীল রাঙা জার্সি।
জাতীয় দলের দরজায় কড়া নেড়ে গেছেন তিনি ধারাবাহিকভাবে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ দুই আসরেও তার ব্যাট চলেছে দুর্বার গতিতে। ২০২৫ সালে ১৫২.৫৮ স্ট্রাইকরেটে ৩৫৪ রান। ২০২৪ সালে ১৪৮.৮৩ স্ট্রাইকরেটে ৩২০ রান। দল থেকে বাদ পড়ার ঠিক পরের মুহূর্ত থেকেই তিনি দুর্নিবার।

এরপর সর্বশেষ সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে, তিনি হয়েছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১৯৭.৩২ স্ট্রাইকরেটে ৫১৭ রান এসেছে তার ব্যাটে। ঝাড়খণ্ডকে চ্যাম্পিয়ন বানাতে তার অবদান থাকবে সম্মুখ সারিতে। ফিরে আসার তীব্র বাসনা বন্ধ দুয়ার খুলে দিয়েছে। সোজা বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ঈশান কিষাণ।
এক প্রকার জোর করেই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে শুভমান গিলের অন্তর্ভুক্তি বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। সেই প্রশ্নের অবসান ঘটিয়েছেন খোদ শুভমান নিজ হাতে। ওয়ানডে ও টেস্টে শুভমানের পারফরমেন্স টপনচ হলেও, টি-টোয়েন্টিতে তিনি ছিলেন এভারেজ। ঠিক সে কারণেই বিশ্বকাপের দলে জায়গা হারিয়েছেন গিল। বলা যেতে পারে তার পরিবর্তেই বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন ঈশান কিষাণ।
একেই সম্ভবত বলে পোয়েটিক জাস্টিস। এই শুভমান গিলকে জায়গা করে দিতে গিয়েই জাতীয় দল থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন ঈশান কিষাণ। আজ তার পরিবর্তেই তিনি আবার ফিরে পেয়েছেন নিজের স্থান। কিন্তু এমনি এমনি এই সুযোগ তিনি পেয়ে যাননি। তা নিশ্চয়ই ভাল করেই জানা আছে তার। সুযোগ মিললেই ঘরোয়া ক্রিকেটের স্ফুলিঙ্গ পরিণত হবে প্রতিপক্ষের ধ্বংসযজ্ঞে, সেটাই তো তার কাছ থেকে এই মুহূর্তে প্রত্যাশিত।












