ছয় বল নয়, ১১ বলে এক ওভার শেষ করলেন জোফরা আর্চার। জন্ম দিলেন বিশৃঙ্খলায় মোড়া এক অদ্ভুত ওভারের গল্প। এবারের আসরে দ্বিতীয়বারের মতো এমন অপ্রত্যাশিত ওভারের জন্ম হলো, যেটা শুরু করেছিলেন আর্শদ্বীপ সিং।
ক্রিকেটে কখনও কখনও একটা ওভারই পুরো ম্যাচের আবহ বদলে দেয়। কখনও সেটা ভয়ংকর গতির আগুনে, কখনও নিখুঁত সুইংয়ে, আবার কখনও বিশৃঙ্খলার গল্পে। গুজরাট টাইটান্স বনাম রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচে জোফরা আর্চারের প্রথম ওভারটা ছিল ঠিক তেমনই এক গল্প—যেখানে গতির সঙ্গে ছিল নিয়ন্ত্রণহীনতা।
ইনিংসের শুরুতেই বল হাতে নিয়েছিলেন আর্চার। রাজস্থান চেয়েছিল শুরুতেই গুজরাটকে চাপে ফেলতে। কিন্তু প্রথম ওভার গড়াতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। চারপাশে তখন শুধু অতিরিক্ত বলের উৎসব!

ওভারের প্রথম বলেই সাই সুদর্শন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দেন, আর্চারের জন্য কাজটা সহজ হবে না। কিন্তু এরপর যা হলো, সেটা যেন এক দুঃস্বপ্নের ওভার। লাইন-লেংথ খুঁজতেই হিমশিম খেতে থাকেন ইংলিশ পেসার। কখনও ওয়াইড, কখনও নো বল, —এক ওভারে যেন ক্রিকেটের সব নাটকই হাজির!
ওভারের দ্বিতীয় বল থেকেই মূলত ওয়াইড দিয়ে সূচনা করেন। পরেরটা ডট। আর এরপরই আসল কাহিনি শুরু। নো বল, এরপর টানা তিন ওয়াইড। এরপর অবশ্য নিজেকে সামলে নিয়েছেন কিছুটা। প্রথম দুই লিগ্যাল ডেলিভারি করতে গিয়েই আটবার হাত ঘুরিয়েছেন, বাকি চার বলে কিছুটা টাল সামলে নিয়েছেন ঠিকই। তবে ওভার শেষে খরচের খাতায় রান সংখ্যাটা ১৮।
সব মিলিয়ে এক ওভার শেষ করতে তাঁকে করতে হয়েছে ১১ বল! টি-টোয়েন্টির দ্রুতগতির ক্রিকেটে যেখানে প্রতিটি ডেলিভারির মূল্য আলাদা, সেখানে একটি ওভারেই অতিরিক্ত পাঁচ বল করে বসা যেকোনো দলের জন্য ভয়ংকর ধাক্কা। যেটার স্বাদ রাজস্থানকে দিলেন আর্চার।

Share via:










