এবারের আগে দুজনে পাঁচটি করে বিশ্বকাপ খেললেও কখনোই একে অন্যের মুখোমুখি হননি লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অবশেষে, দুজনের শেষ বিশ্বকাপে এসে ফুটবলের দুই মহাতারকাকে একে অন্যের বিরুদ্ধে খেলতে দেখার ভাগ্য হতে পারে দর্শকদের। ২০২৬ বিশ্বকাপের সমীকরণ যেন তৈরি হয়েছে এই দুই জীবন্ত কিংবদন্তিকে মাঠে নামানোর জন্যে।
বিগত দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করেছেন দুজনে মিলে, ভাগ করেছেন কোটি ভক্তের আবেগকে। ২০০৬ সালে একসাথে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করা মেসি ও রোনালদোর এবার ষষ্ঠ আসর। অলৌকিক কিছু না ঘটলে এবারের আসরই হতে যাচ্ছে দুজনের শেষ বিশ্বমঞ্চ। দীর্ঘ বিশ বছরে দুজনের অসাধারণ পারফরম্যান্সের বহু গল্প লেখা হলেও, বিশ্বকাপের ময়দানে তাঁদের মুখোমুখি লড়াইয়ের সেই ক্ষণটি দেখা যায়নি কখনোই।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার খেলবে ‘জে’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। অন্যদিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল ‘কে’ গ্রুপে লড়বে কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই অতিমানবের দ্বৈরথ দেখতে হলে দুই দলকেই পাড়ি দিতে হবে এক কঠিন পথ। প্রথম শর্ত হলো, উভয় দলকেই নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখতে হবে। গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে যাওয়ার পরই কেবল উন্মোচিত হতে পারে দুজনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর যদি দুই দলই রাউন্ড অব থার্টি-টু এবং শেষ ষোলোর বাধা সফলভাবে টপকাতে পারে, তবেই আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে সরাসরি একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়ানোর এক জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে মেসি ও রোনালদোর।
আর্জেন্টিনা আর পর্তুগাল এবারের বিশ্বকাপে এসেছে শক্তিশালী দল নিয়ে। দুই দলই যদি সকল বাধা পার হয়ে গ্রুপ চ্যম্পিয়ন হিসেবে খেলে এবং পরের ধাপ পার করে কোয়ার্টার ফাইনালে যায়, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশা থাকবে মেসি আর রোনালদো যেন নিজেদের শেষ আসরে এসে একে অন্যের মুখোমুখি হন।











